• মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
Headline
মাদক ও অনলাইন জুয়ার কারনে অর্থ সংকটে ভুগে দাদীকে হত্যা নাতীসহ গ্রেফতার তিন আমি কোন দল করব—এর ওপর হস্তক্ষেপের অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি আদমদীঘিতে পুকুর থেকে ভাসমান মরদেহ উদ্ধার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কালবৈশাখি ঝড়ে লন্ডভন্ড বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক বিধ্বস্ত ঐতিহাসিক যাত্রা রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসায় শিগগির ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান জাতীয় নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ পায়নি ইইউ নির্বাচন মিশন আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক আহত হজযাত্রীদের সেবায় মক্কায় বিশেষ উদ্যোগ

অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ধান

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ / ২৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

 কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার উৎসব চলছিল পুরোদমে। কিন্তু সেই আনন্দে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটিয়েছে টানা অতিবৃষ্টি। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণে হাওরের নিম্নাঞ্চলে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে খোয়াই নদীর পানি ঢুকে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধানক্ষেত। ফলে কৃষকের স্বপ্নের সোনালী ফসল এখন ডুবে যাচ্ছে পানির নিচে।

অতিবৃষ্টির কারণে শুধু জমিই নয়, ধান শুকানোর খলাতেও পানি জমেছে। এতে ধান মাড়াই ও সংরক্ষণেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আক্তার ফারুক জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। আগামীকালও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি নামেনি, বরং কোথাও কোথাও আরও বাড়ছে। অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, তাড়াইল, করিমগঞ্জ ও বাজিতপুরের হাওর এলাকাতেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ টন, যার বড় অংশই আসার কথা হাওর অঞ্চল থেকে। এখন পর্যন্ত কৃষকেরা হাওরাঞ্চলের ৫০ পার্সেন্ট বোরোধান কাটতে পেরেছে।

অষ্টগ্রামের খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকার কৃষক ফুল মিয়া বলেন, “অতিবৃষ্টিতে আমাদের এলাকার শত শত একর ধান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। চোখের সামনে কষ্টের ফসল ডুবে যাচ্ছে, আমরা অসহায়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিকেলের মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, অষ্টগ্রামের খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর এলাকায় খোয়াই নদীর পানি ঢুকে পাকা ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত হাওরাঞ্চলে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছিল।

এদিকে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার হাত থেকে বাঁচতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কৃষকরা কেটে ঘরে তুলতে সেইজন্য আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া ছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category