মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শাপলাবাগ এলাকার আলোচিত ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী রুয়েল মিয়া ওরফে মোস্তফাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেফতারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গলের শাপলাবাগ, সোনারবাংলা রোড ও রেলস্টেশন এলাকায় একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও অত্যাচার করে আসছিল রুয়েল মিয়া ও তার সহযোগীরা। গত ১২ এপ্রিল রাতে শাপলাবাগ রেলওয়ে এলাকায় সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি লুৎফর রহমানকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়।
পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ র্যাব-৯ ও র্যাব-১০ এর সহযোগিতায় ২৩ এপ্রিল ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী রুয়েল মিয়া ওরফে মোস্তফা (২৬) এবং তার সহযোগী রাশেদ মিয়া (২৬)সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, রুয়েল মিয়ার বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন থানায় ১০টি এবং রাশেদ মিয়ার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় এর আগে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, পৃথক এক অভিযানে শ্রীমঙ্গলের আলোচিত শিশু জুনায়েদ মিয়া (১৫) হত্যা মামলার মূল আসামি আলামিন (২২) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, গত ২৭ মার্চ আলামিনের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে জুনায়েদ মিয়াকে হত্যা করে তার মরদেহ জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে মামলার অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দির ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ২৩ এপ্রিল ভোরে অভিযান চালিয়ে আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। এ মামলায় ইতোমধ্যে পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২৪ এপ্রিল শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে জিআর ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া একই দিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে ছয়টি বালুবাহী ট্রাক আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে যথাযথভাবে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।