মসজিদের ওয়াল ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেন আজিজুল
নওগাঁয় নিয়ম মাফিক চলাচলের জন্য জায়গা না ছেড়েই বাড়ি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এঘটনায় একাধিক কর্মকর্তার কাছে ধর্ণা দিয়েও প্রতিকার মিলছে না ভুক্তভোগীদের।
তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড নওশাদ হাসান কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও অদৃশ্য কারণে চলমান রেখেছে বাড়ি নির্মাণের কাজ।
ফলে ভবিষ্যতে চলাচলের রাস্তা না পাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। আর ইউএনও বলছেন তার কিছু করার নেই।
ঘটনাটি সদর উপজেলার দোগাছী স্কুল পাড়া বায়তুল নূর জামে মসজিদের সামনে। অভিযোগ ওঠা আজিজুল ইসলাম আবার ওই মসজিদের সাধারণ সম্পাদক।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মসজিদের ওয়াল ভেঙে চলাচলের রাস্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন আজিজুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় স্থানীয় মুসল্লিদের মনে। এদিকে চলাচলের জন্য জায়গা না ছাড়াই ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একই এলাকার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা শেখের ছেলে মুনসুর শেখ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও মেলেনি সুরাহা।

স্থানীয় মুনসুর, মিজানুর, সুমি, মোস্তাফিজুর, আব্দুল কুদ্দুস, ও জিয়াউরসহ ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা এটা। প্রায় ১৫-২০ বছর ধরে এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করে থাকি। আজিজুল যেখানে বাড়ি করছে, সেটা তার কেনা সম্পত্তি। সেই জমি ও মসজিদের পাশ দিয়েই আমরা চলাচল করে থাকি। অথচ বারবার বলার পরও সে নিয়ম মাফিক রাস্তা ছাড়তে চায়না। গ্রামে একাধিকবার আলোচনাও হয়েছে। কোনো সুরাহা হয়নি। তৎকালীন ইউএনও বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পর কাজ বন্ধ রেখেছিল।
তারা আরও বলেন, বাড়ি নির্মাণ শুরুর আগে আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। গ্রাম্যভাবে বসে স্থানীয় মেম্বারসহ কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে মসজিদের ওয়াল ভেঙে রাস্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আমাদের। আমরা প্রথমে সায় দিয়েছিলাম না। তাদের অনেক অনুরোধে একপ্রকার রাজি হয়েছিলাম। যার সুযোগ নেন আজিজুল। তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিয়ম মাফিক জায়গা না ছেড়েই শুরু করেন বাড়ি নির্মাণের কাজ। পরবর্তীতে রাস্তা দেওয়ার কথা বললে কেউ আর এগিয়ে আসে না। বাধ্য হয়ে প্রতিকারের আশায় আবারও অভিযোগ দেওয়া হয়। তারপরও রাস্তা না দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করলে এসিল্যান্ড এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর আবারও অদৃশ্য কারণে কাজ চলমান রেখেছে আজিজুল ইসলাম। কিন্তু এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র কাছে বারবার বলার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।
মুঠোফোনে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি না আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভাই সামনা সামনি আসেন কথা বলবো। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, আমি একাই কেন রাস্তা দেব? বরং মসজিদের মধ্যে এই জমি চলে গেছে। তারপরও আড়াই ফিট ছেড়েছি। আর মসজিদের ওয়াল ভেঙে রাস্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যান।
জানতে চাইলে স্থানীয় মেম্বার আমিন হোসেন মুঠোফোনে আজিজুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ওখানে রাস্তা ছিল না। আর মোবাইলে মন্তব্য করতে রাজি না। আপনি বাড়িতে আসেন। সামনাসামনি কথা বলবো।
জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, আমার কাছে তারা এসেছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জমিতে কেউ কিছু করলে আমার করণীয় নেই, হস্তক্ষেপ করতে পারিনা। ব্যক্তিগত জমিতে আমার কোনো এখতিয়ার নেই বাঁধা দেওয়ার। বাংলাদেশের প্রচলিত ১৩০০ আইন আছে, কোনো আইনে আমরা বলতে পারবোনা আপনি জায়গা ছেড়ে দেন। আমরা রিকোয়েস্ট করতে পারি। তবে আমি বলেছি সমঝোতা করে কাজ করার।

তিনি বিবাদীকে চেনেননা একাধিকবার বললেও তার পক্ষে সাফাই গেয়ে আরও বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত জমি ছিল, মানুষ এতোদিন ব্যবহার করেছে। কাজেই আমার কোনো আইনেই কাভার করেনা। তবে বিল্ডিং কোড নিয়ে ধরতে পারি। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী তার পাশের জমি থেকে তিন ফিট ভিতরে প্রথম পিলার পড়বে। কিন্তু এটা দিয়েও তাকে আটকানো যায়না। সে ভবনটি তিন ফিট ভিতরে করলো, সীমানা প্রাচীর জায়গা বরাবর করে ফেললো, তাহলে কিন্তু জায়গা আটকে যাচ্ছে। একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।কাজেই ব্যক্তিমালিকানা জমির শ্রেণী পরিবর্তন না করে, সে তার মতো ব্যবহার করতে পারবে।

তাহলে জনগণ কি চলাচল করতে পারবেনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা জনগণের চলাচলের রাস্তা না, ব্যক্তির চলাচলের রাস্তা এবং সরকারি রাস্তাও না। যদি সরকারি রাস্তা হতো, তাহলে দশ তলা বিল্ডিং হলেও এখনই গিয়ে উচ্ছেদ করে ফেলতাম, এক মিনিটও দেরি করতাম না। আর ব্যক্তিমালিকানা হলে আমার কিছু করার নেই। আমি আমার আইনের বাহিরে যেতে পারবো না।
মুঠোফোনে জানতে চাইলে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট উপজেলায় কথা বলতে বলেন। ইউএনও’র সাথে কথা বলা হয়েছে জানালে তিনি বলেন, পৌরসভায় হলে জায়গা ছাড়ার একটা বিধান আছে, আর অন্য কোথাও জায়গার অবস্থান বুঝে। তবে এভাবে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। উর্ধ্বতন হিসেবে আপনার মন্তব্য কি লিখবো জবাবে তিনি বলেন, আপনি অফিসে আসেন কাগজ কলম দেখে একটা পরামর্শ দিতে পারি।