ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী ৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গির হোসেন খান ও তার দুই পুত্র সবুজ ও সজিবকে থানায় আনা হয়েছে।
রবিবার (৩ মে) নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা ব্যবসায়ী মো.বশির খান বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
নিখোঁজ জুনায়েদ খান (১৩) উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের বানাই গ্রামের মো.বশির খানের ছেলে ও স্থানীয় বানাই হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।
অভিযোগে প্রকাশ, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় স্কুলে যাবার কথা বলে বাড়ী থেকে বের জুনায়েদ। স্কুল ছুটির পর বাড়ীতে ফিরে না আসায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেন তার স্বজনরা। পরে জানতে পারেন জুনায়েদকে একই বাড়ীর জাহাঙ্গির খানের ছেলে সবুজ ও সজিব মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এলাকায় নিয়ে গেছেন। পরের দিন সবুজের বাবা জাহাঙ্গির খানকে সাথে নিয়ে জুনায়েদকে খুঁজতে মাওয়া যান জুনায়াদের বাবা বশির খান।
মাওয়া এলাকার খান বাড়ী নামক স্থানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন সবুজ ও সজিব। সেখানে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়। এসময় সবুজ ও সজিব স্বীকার করেন জুনায়েদ তাদের সাথে মাওয়া এলাকায় আসার জন্য গাড়ীতে বরিশাল পর্যন্ত আসে। জুনায়েদকে তারা বাড়ীতে ফেরত পাঠানোর জন্য ভান্ডারিয়ার একটি বাসে তুলে দেয়। জুনায়েদের ব্যবহৃত মানিব্যাগটি সবুজের কাছে পাওয়া যায়। রাতে সবুজ ও সজিব সাথে নিয়ে মাওয়া থেকে বরিশাল আসেন বশির খান ও জাহাঙ্গির খান।
শনিবার (২ মে) দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শহরের বাসস্টান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও জুনায়েদকে পাওয়া যায়নি। বিকেলে একটি মোবাইল নম্বর থেকে জুনায়েদের বাবাকে ফোন দিয়ে বলা হয়, আপনার ছেলে আমাদের কাছে আছে ঝালকাঠি বাসস্টান্ডের অপর দিকের বিকাশের দোকান থেকে ২০ হাজার টাকা পাঠালে আপনার ছেলেকে ফেরত দেওয়া হবে। পুলিশ অথবা আইন শৃংখলা বাহিনীকে জানালে আপনার ছেলের সমস্যা হবে। হ্যালো সাদুল্লাপুর নামে রেজিষ্টেশন করা ফোনটি টাকা চেয়ে রাত ৯টায় পুনরায় ফোন দেয়। জুনায়েদের পিতা বশির খান তার ছেলেকে ভিডিও কলে দেখাতে বললে, ফোনটি কেটে বন্ধ করে রাখেন। এ বিষয়ে রোববার (৩ মে) লিখিত অভিযোগ করেন জুনায়েদের পিতা বশির খান।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের রায়হান জানান, নিখোঁজ জুনায়েদের পিতা বশির খান থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একই বাড়ীর জাহাঙ্গির খান ও তার দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।