• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৭:১২ অপরাহ্ন
Headline
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ৬৮ হাজার একর লবণ চাষ, দুশ্চিন্তায় উপকূলের চাষিরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা বাগাতিপাড়ায় খাল পুনঃখনন উদ্বোধন: কর্মসংস্থান ও পানির সংকট নিরসনের আশা শ্রীমঙ্গলে এমআর টিকাদানে অনিয়ম: সমন্বয়হীনতায় ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য নাটোরে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা: মির্জা ফখরুল সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রকল্প অনুমোদন সহজের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট র‍্যাব-৯ এর অভিযানে কুলাউড়ায় মাদকসহ ৩ জন গ্রেফতার

মৌলভীবাজারে বাড়ছে হাওরের পানি, নতুন করে ডুবছে ধান

মনজু বিজয় চৌধুরী,মৌলভীবাজার / ১০ Time View
Update : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

গত কয়েকদিনে ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের হাওড়াঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। পানি কমার আশা ভেস্তে দিয়ে আবার বৃষ্টি: তলিয়ে যাওয়া বোরো ফসল নিয়ে মৌলভীবাজারের কাওয়াদিঘীর হাওরে কৃষকের হাহাকার। ঋণের বোঝা অনিশ্চয়তা দিন দিন মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কৃষকদের।”
সরিজমেন গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার কাউয়াদিঘি ও হাইল হাওড় অঞ্চলে হু হু করে বাড়ছে পানি। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন কৃষক। ‘দিনে রাতে পানি বাড়ছে। চোখের সামনে পাকা ধান ডুবে গেছে। কেউ কোমর সমান পানিতে নেমে, কেউ নৌকায় করে জমিতে গিয়ে ধান কাটছেন। হাওড়ের বুক থেকে ছোট ছোট নৌকা পাড়ের দিকে ভেসে আসছে। ওই নৌকাগুলো পাড়ে লাগানোর পর কৃষকরা ধানের আঁটি তুলে শুকনা স্থানে রাখছেন। কেউ যন্ত্রে ধান মাড়াই করছেন। কেউ ভেজা ধান স্তুপ করে রাখছেন। কেউ আবার সেই ধান বস্তায় ভরছেন। শ্রমিকরা ধানের বস্তা কাঁধে ও মাথায় করে শুকনা স্থানে নিয়ে তুলছেন। এক ফসলি এলাকা হওয়ায় জীবন-জীবিকার শেষ ভরসা রক্ষায় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারি বর্ষণ ও ঢলের পানি হাওড়পারের কৃষকের ফসল তোলার এ আনন্দ-উৎসব নিঃশব্দ-নীরব কান্নায় পরিণত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ হাজার ৪৩২ হেক্টর জমি পানিতে ডুবে যায়। এর মধ্যে ৯৪১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাউয়াদিঘি এর হাইল হাওড় কৃষক কান্না জড়িত কণ্ঠে সাবির মিয়া বলেন, আল্লাহ যদি রিজিক দেন, যেসব ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো কয়েক বস্তা করে সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কৃষকরা জানান,কৃষি কর্মকর্তা আমাদের কাছে আসেননি। তাহলে হয়তো আমাদের এত কষ্ট করতে হতো না। নৌকার মধ্যে থেকেই ধান কেটে আনা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত না থামায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ধান সরিয়ে নিতে হচ্ছে। আর্থিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলে গরিব মানুষের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
কৃসক জানান,মশাহিত মিয়া জানান, প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ তুলে কৃষিকাজ শুরু করেছেন। এবার সব কিছু পানির নিচে চলে গেছে। একটি খামারের পেছনে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, এর সঙ্গে আবার গাড়ি ভাড়াও লাগে। সার, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিটি খামারে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার আর্থিক অবস্থা এখন চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। কিছু ঋণ নিয়েছিলাম, কিন্তু তা পরিশোধের কোনো পথ এখন আর নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ জালাল উদ্দিন, জানান, এ বছর কৃষকরা উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটছে এবং ভালো ফলনের আশা করছে। অতিবৃষ্টির কারণে জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। কৃষকরা নৌকা ও অন্যান্য মাধ্যমে ধান কেটে সংগ্রহ করছেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে,শ্রমিক সংকট বা অন্য কোনো বড় সমস্যা এখন নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category