• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন
Headline
টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন  ৫৫ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১০ জন মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাঁঠালিয়ায় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি

মাদকসেবনের আসামিকে থানায় নিতে যুবকের বাঁধা; পুলিশ বলছে ওটা তেমন কিছু না

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ / ৬৩ Time View
Update : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে মাদক সেবনের অভিযোগে ওয়াসিম সরকার (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। তবে তাকে নিয়ে আসার আগে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠে রেন্টু হোসেন (৩২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২মে) বিকেলে উপজেলার কাশিয়াবাড়ী হাট এলাকায়।

এদিকে বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি খোদ রেন্টু নিজে স্বীকার করলেও পুলিশ অদৃশ্য কারণে এড়িয়ে যাচ্ছেন। রেন্টুর দাবি পুলিশ নিরপেক্ষতার পরিচয় দেয়নি। আর পুলিশ বলছে বাঁধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এরকম হলে তাকে নিয়ে আসা হতো।

অপরদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনে বাঁধা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রেপ্তার মাদক সেবনকারী ওয়াসিম সরকার কাশিয়াবাড়ী এলাকার মৃত অজিত সরকারের ছেলে। এবং হাট-বাজার ঝাড়ু দেওয়ার কাজ করেন বলে জানা গেছে।

আর অভিযোগ ওঠা রেন্টু হোসেন পারপাঁচুপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমান ক্ষমতাশীল দলের এক নেতার ঘনিষ্ট বলে জানা গেছে।

জানা যায়, শনিবার কাশিয়াবাড়ী হাট এলাকায় নিজ বাড়ীতে বসে মাদক সেবন করছিল ওয়াসিম সরকার। খবর পেয়ে এসআই ইউনুস আলীর নেতৃত্বে আত্রাই থানা পুলিশের একটি দল ওয়াসিম সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সদস্যদের গাড়ি আটকিয়ে বাঁধা দেয়। এবং তাকে নিয়ে যাওয়া হবেনা জানিয়ে পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে এসআই ইউনূস আলীর সাথে তর্কে জড়িয়ে বাকবিতন্ডা শুরু করেন রেন্টু নামের ‍ওই যুবক। তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি মাদক সেবনকারী ওয়াসিমের। পুলিশ ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে।

এদিকে হাতে আসা একটি অডিও বার্তায় কাউকে উদ্দেশ্য করে রেন্টুকে বলতে শোনা যায়, আমি সাংবাদিকের রাজনীতি করিনা, আমি আপনার রাজনীতি করি। আপনি ওসির সাথে কথা বলেন। এখান থেকে ওয়ারেন্ট ছাড়া আসামি যাবেনা। আসামি নিয়ে যেতে বাঁধা দিলে, দায়িত্বরত এসআই ইউনুস আলী রেন্টুকে বলছিল আপনি আপনার কাজ করেন, আমি আমার কাজ করছি। এরপর দায়িত্বরত এসআইকে আবার রেন্টু বলছিল, ওয়াসিমকে নিয়ে গেলে আমাকেও নিয়ে যেতে হবে, জবাবে এসআই জানান আপনাকে নিয়ে যাবো কেন, উত্তরে রেন্টু বলেন আমিও মদ খেয়েছি, আমি নিজে স্টেটমেন্ট দিচ্ছি। এভাবেই উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চ বাচ্য কথা ও বাকবিতন্ডা শুরু                                                 

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বর্তমানে রেন্টু আত্রাই উপজেলা বিএনপির এক নেতার খুব ঘনিষ্ঠ এবং নিজেকে বিএনপির নির্যাতিত কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে স্থানীয়রা জানান। তাই তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় এলাকায় নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। আর সেই কারণে ক্ষমতাশীল দলের প্রভাব খাটিয়ে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো পুলিশের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেন রেন্টু হোসেন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, একজন মাদক বিক্রেতার ফোন পাওয়া মাত্রই পুলিশ এসে ওয়াসিমকে ধরে নিয়ে যাবে এটা কেমন কথা। তাছাড়া ওয়াসিম হাট-বাজার ঝাড়ু দেওয়ার কারণে তার মদ খাওয়ার লাইসেন্স আছে এবং বাড়িতে বসে মদ খাচ্ছিল। আর যে মাদক বিক্রি করে, তাকে কেন ধরবে না? পুলিশের এই ভূমিকার কারণে বাক বিতন্ডা করেছি। কারণ জানতে চেয়েছি। তাহলে আইন কি সমান নয় প্রশ্নের সুরে বলেন তিনি। তাই আমি ইচ্ছেকৃতভাবে পুলিশের সাথে থানায় এসেছি। আমি আগামীকাল এসপি স্যারের কাছে কিছু বিষয় নিয়ে অভিযোগ দিয়ে আসবো।

আত্রাই থানার এসআই ইউনুস আলী মুঠোফোনে বলেন, রাজনীতি করা মানুষ, এমনি জিজ্ঞেস করছিল কি জন্য নিয়ে যাবেন। আহামরি বড় ধরণের কিছু না। স্বাভাবিকভাবে মানুষ যেমনটা বলে আমার লোককে কেন নিয়ে যাবেন এই আরকি। আর কেউ সিনিয়র অফিসারের নাম ভাঙালে আমরা সেটাতো যাচাই করবো। এখানে রেন্টু কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি। খারাপ ব্যবহার করে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নিতাম। এভাবেই দায়সারা জবাব দিলেন এসআই ইউনুস।

জানতে চাইলে বাঁধা দেয়নি বলে জানালেন আত্রাই অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম। তিনি মুঠোফোনে বলেন, বাঁধা দিলে রেন্টুকেও ধরে নিয়ে আসা হতো। রেন্টু শুধু পুলিশকে বলেছে ওয়াসিম মদ সেবন করে, তার মদ সেবনের লাইসেন্স আছে। এছাড়া ওয়াসিমকে ধরে নিয়ে এসে চালান দিচ্ছি, এটা নিয়ে এতোকিছু করারতো দরকার নেই ভাই। আর বাকবিতন্ডার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি লিখে দেন এই বিষয়ে ওসি অবগত না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category