• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
Headline
রাজধানীর শাহবাগের মেস থেকে তরুণ চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার অর্ধেক অপারেশন রেখেই পালালেন চিকিৎসক, ক্লিনিক ঘেরাও নাটোরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের দণ্ড মমতার গাড়ি ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান, সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে উত্তেজনা তামিলনাড়ুতে ঐতিহাসিক জয়ের পথে বিজয়, পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে : মোদি রাস্তার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা; ইউএনও বলছেন কিছু করার নেই কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ৬৮ হাজার একর লবণ চাষ, দুশ্চিন্তায় উপকূলের চাষিরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির সংরক্ষিত নারী এমপিদের শ্রদ্ধা বাগাতিপাড়ায় খাল পুনঃখনন উদ্বোধন: কর্মসংস্থান ও পানির সংকট নিরসনের আশা

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়েছে ২ হাজার হেক্টর জমি

জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ / ৩০ Time View
Update : শনিবার, ২ মে, ২০২৬

 

বৃষ্ট ও  উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমি তলিয়ে গেছে। এতে এ পর্যন্ত মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার হাওরাঞ্চলে, বিশেষ করে ইটনা উপজেলার হাওরে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে।

শনিবার (২ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। এর মধ্যে শুধু ইটনা উপজেলাতেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রোদ থাকলেও আজ শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও জমি তলিয়ে গেছে।

জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস জানায়, ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি বেড়ে ৩.০৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ মিটার, বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটার, যা ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখনো সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। গতকাল রোদ থাকলেও আজ সারাদিনের বৃষ্টিতে খলায় রাখা ধান শুকাতে পারছেন না। এতে ধানে চারা গজানো ও পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এর আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category