শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন সাহাবুদ্দিন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের নানা উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের প্রসঙ্গও আসে তার বক্তব্যে।
তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণে ঘোষিত কর্মপরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে।”
“পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শ্রম আইন প্রণয়ন ও শ্রমকল্যাণ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।”
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সরকার বন্ধ কলকারখানা, চিনিকল ও রেশম কারখানা চালু করে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে তিনি বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ছয়টি বন্ধ পাটকল চালু করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নের মূল কারিগর, অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের নিরলস পরিশ্রমই দেশের অর্থনীতি ও সভ্যতাকে বেগবান করছে।”
তিনি বলেন, “নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকাররক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের নিরাপত্তা, সম্মান, অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

‘মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে শুক্রবার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিরপুরের রূপনগরে রাসায়নিকের গুদামের আগুনে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: পিআইডি
মাতৃকালীন ছুটি, সমান কাজে সমান মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান সাহাবুদ্দিন।
শ্রমিকদের অধিকার আরও সুসংহত করতে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখতে বাংলাদেশ এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকলে অনুস্বাক্ষর করেছে।
‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে সবার নব প্রভাত’–এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সেখানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন।