মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে মনু নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বসতভিটা নদীগর্ভে ও ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর স্রোত বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মনু নদীর ভাঙনের শিকার অসহায় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে আখাইলকুড়া ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে। বিগত তিন বছর ধরে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বর্তমানে এই মানুষগুলো সম্পূর্ণ আশ্রয়হীন এবং তাদের থাকার মতো কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তার ধারে তাদের দিন কাটছে। ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক এবং সরকারের কাছে ত্রাণ নয় বরং টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা এখানে মূল বিষয়। ইতোমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত ৩০ থেকে ৩৫ টি বসতবাড়ি। এছাড়া মসজিদ, মন্দিরসবই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ভাঙনের মুখে পড়া ভুক্তভোগীরা জানান, “আমার নদীর পাড়ে ঘর ভেঙে যাচ্ছে, সবকিছু ভাঙনের মুখে। বাচ্চা নিয়ে কীভাবে থাকব? আমরা আতঙ্কে ও অসহায় অবস্থায় বসবাস করছি। আমাদের কোনো স্থায়ী বসবাসের জায়গা নেই, আমরা অস্থায়ীভাবে দিন কাটাচ্ছি এবং চরম অশান্তির মধ্যে আছি।”
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান,মনু নদীর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের চানপুর নামক স্থানে বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। আগে থেকেই প্রায় ৪০০ মিটার জায়গায় ভাঙ্গন ছিলো। আমরা বরাদ্দ পেয়েছি ৮০ মিটার জায়গা। আমাদের কাজ চলমান আছে। বাকি অংশটা আমরা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেন, সদর উপজেলায় মোট ২২টি ফ্লাড সেন্টার বা বন্যা আশ্রকেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল রাতে হঠাৎ করেই মনু নদীর ভাঙন আখাইলকুড়া ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে দেখা যায় এবং আমরা নিরাপদভাবে সরিয়ে নিয়ে এসেছি। এবং তাদেরকে তাৎক্ষণিক শুকনা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।