• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
Headline
মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিকেলে ফের অভিযান বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনের বহু কাণ্ডারীও ভুক্তভোগী হচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ২০২৬ পালন। ৩৭তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদের পদোন্নতি অগ্রগতি কতদূর? ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপিত, আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

স্কুল ফিডিংয়ে দিনাজপুরের প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন

দিনাজপুর প্রতিনিধি / ১৬২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

দিনাজপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষায় এক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। জেলার বিরল, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বিরামপুর উপজেলার ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে এ কার্যক্রম চালমান রয়েছে।

জেলার বিরল উপজেলার কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বেড়েছে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে দুটি বনরুটি, সিদ্ধ ডিম ও কলা যা শিশুদের দৈনন্দিন পুষ্টি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিফিন পিরিয়ডে নির্ধারিত স্থানে শিক্ষার্থীরা সুশৃঙ্খলভাবে খাবার গ্রহণ করার ফলে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সততা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটছে। গত ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় জেলার ৫ টি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় অবস্থিত ৬০২টি বিদ্যালয়ের মোট ৬৯ হাজার ৭৭৪ জন শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে সপ্তাহে পাঁচ দিন খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে। জেলার পাঁচ টি উপজেলায় প্রায় ২১০ জন নারী উদ্যোক্তা নিয়মিতভাবে ডিম ও কলা সরবরাহ করছেন। এতে তারা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন জানান বাড়ীথেকে অনেক সময় না খেয়ে স্কুলে আসতাম। এখন প্রতিদিন স্কুলে খাবার পাই তাই স্কুলে আসতে ভালো লাগে। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা মিমি জানান স্কুল থেকে খাবার পাওয়ায় আমাদের বাড়ী থেকে টিফিন আনতে হয় না এবং ক্ষুধার্ত থাকতে হয় না। ক্লাসে লেখাপড়া মনোযোগ দিয়ে করতে পারি।

কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার আলী জানান স্কুল ফিডিং চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে অনিয়মিত থাকা শিক্ষার্থীরাও এখন নিয়মিত স্কুলে আসছে, ফলে শিক্ষার পরিবেশ ও মান উভয়ই উন্নত হয়েছে। অভিভাবকরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এটি একটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিমরান মোহাম্মদ সায়েক বলেন সরকারের এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে ঝরে পড়া কমছে এবং শিক্ষার মান উন্নত হচ্ছে। খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকির জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচি শুধু পুষ্টি নিশ্চিত করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের সুস্থ, সচেতন ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category