প্রকৃতির সবুজ চাদরে মোড়ানো চা বাগান শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাক্ষী নয়। প্রায় দুই‘শ বছর ধরে সেখানে বসবাসরত চা শ্রমিকদের ঘামে শ্রমে প্রতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও তাদের ছেড়ে যায়নি দারিদ্রতা। প্রতি বছর মে দিবস আসে আবার চলে যায়। কিন্তু তাদের অধিকার,শিক্ষা,স্বাস্থ্য বাসস্থান ও নিজস্ব ভুমি থেকে শুরু করে জীবন যাত্রার কোন বদল আজও হয়নি। চা শ্রমিকরা আজও তাদের ন্যায্য দাবী দাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, চা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ও রপ্তানি পণ্য। প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে বাগানে যারা কাজ করে তাদের অধিকাংশই নারী শ্রমিক। কিন্তু তাদের নিজস্ব ভুমি থেকে শুরু করে জীবন যাত্রার কোন বদল আজও হয়নি। বাংলাদেশে ১৭২টি চা বাগান ছোট ও বড় মিলে রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার ৯৭টি চা বাগানে কর্মরত লক্ষাধিক চা শ্রমিক বছরের পর বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখনও তাদেরকে বেতন বৈষম্যসহ নানা বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। কিন্তু তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে শুরু করে শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার বাস্তবায়িত হয়নি আজো। এর মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ ভাগের উপরে নারী চা শ্রমিক রয়েছেন। চা বাগানের অভ্যন্তরে ও বাইরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে।
প্রেমনগর চা বাগানের শ্রমিক গোপাল রবিদাস জানান, মে দিবস আসে,মে দিবস চলে যায়। কিন্তু আমাদের কোনো উন্নতি নাই। আমরা ১২০ টাকা থেকে ১৮৭ টাকা পর্যন্ত এখনো রয়েছে। আমাদের ঘর-বাড়ি,চিকিৎসা ব্যবস্থা সবকিছু অবনতি। কিন্তু চা শ্রমিকের জীবনমানের কোনো পরিবর্তন নাই।
চা বাগানের শ্রমিক নয়নমনি রবিদাস বলেন, প্রায় ২০০ বছর যাবৎ আমরা এই বাংলাদেশে বসবাস করার পরও আজ পর্যন্ত আমরা আমাদের মূলত অধিকারগুলো পাইনি।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি পংকজ কন্দ বলেন,বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিঠির সহ সভাপতি পঙ্গজ কান্তা বলেন, চা বাগানে যারা আবদ্ধ হয়ে আছে, যুগ-যুগান্তব্যাপী তারা সেখানেই পড়ে আছে। আমরা প্রত্যাশা করছি তাদের প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের দাবি, এই মে দিবসে দাবি, মে দিবসেই চেতনা হোক।
বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের (শ্রীমঙ্গলস্থ) উপ-পরিচালক মহব্বত হোসাইন জানান, বর্তমানে চা শিল্পের শ্রমিকরা দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা সকলে সর্বদা কাজ করছি এবং বর্তমান সরকারও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে।