ছাতা ছাড়া বের না হয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য কাছাকাছি দোকান বা ভবনের নিচে দাঁড়াতে দেখা গেছে অনেককে। তবে যাদের কাছে ছাতা ছিল, তারাও পুরোপুরি রক্ষা পাননি, দমকা বাতাসে বৃষ্টির পানিতে অনেকটাই ভিজে যান তারা।
নিউমার্কেট এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
আজিমপুর বাস্ট্যান্ড থেকে ভিআইপি পরিবহনের যাত্রী কমল সরকার বর্তমান বাংলাদেশকে বলেন, “হঠাৎ করে আকাশ এতটাই অন্ধকার হল, অফিসে কিভাবে যাব সেটাই ভাবছিলাম। শেষ পর্যন্ত ছাতা নিয়েও ভিজতে ভিজতে বাসে উঠেছি।”

আগারগাঁও এলাকায় শিকড় পরিবহনের যাত্রী নদী ইসলাম বলেন, “বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ভিজেছি রিকশার জন্য, এখন আবার ভিজতে হয়েছে বাসের জন্য।
বৃষ্টি দেখলে রিকশা চালকরাও ভাড়া বাড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন চানখারপুল এলাকার অফিসগামী সামিয়া আক্তার।
তিনি বলেন, “একদিকে বাসার সামনের রাস্তায় পানি, রিকশা আসতে চায় না। অপরদিকে সুযোগবুঝে রিকশা চালকরাও ভাড়া দ্বিগুণ চান।”
আরেক নারী কর্মজীবী বলেন, “ছাতা থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টিতে ভেজা এড়াতে পারিনি। তবে ভোগান্তি হলেও গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।”
রাজধানীতে টানা বৃষ্টির ফলে কারওয়ান বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ওয়ারী, বকশিবাজার, রামপুরা, এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ভারি বর্ষণের আভাস দিয়েছিল আগেই। মঙ্গলবারের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি অব্যাহত থাকায় বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশের সব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪-৮৮ মিমি) থেকে অতি ভারি (৮৮ মিমির বেশি) বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারী বর্ষণের কারণে দেশের কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বর্তমান বাংলাদেশকে বলেছিলেন, “আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে তাপপ্রবাহ ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।”