একজন মূমূর্ষ রোগীর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ ফজলে রাব্বী কেড়ে নিয়েছে সাংবাদিকের মুঠোফোন। এ সময় হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ ফজলে রাব্বী উদ্ধতপূর্ণ আচরণ করায় রোগীর স্বজনরা এসে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় সাংবাদিককে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহল, ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন সহ এলাকায় ব্যাপক নিন্দার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরের মাঝিপাড়া গ্রামের কালাচাঁদ সরকার নামের স্বাস কষ্ট জনিত এক মূমূর্ষ রোগীকে নিয়ে যায় আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রোগীর অবস্থা বেগতিক হওয়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার গরিমশি করেন এমন দাবী রোগীর স্বজনদের। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সাফ জানিয়ে দেয় হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘ দিন থেকে তেল নেই। আপনারা অন্য কোন ভাবে বগুড়াতে রোগীকে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে দৈনিক দিনকাল এর আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি হেদায়েতুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান রোগী জরুরী বিভাগের বেডে স্বাস কষ্টে কাতরাচ্ছে। এরপর রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে বাহিরে এসে এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের সাথে কথা বলার সময় হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ ফজলে রাব্বী উত্তেজিত হয়ে ওই সাংবাদিকের সাথে অশোভন আচরণ করে তার মুঠোফোন কেরে নেয়। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নওগাঁ থেকে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে মূমূষ রোগীকে বগুড়া শজিমেকে নেয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মুর্হুতের মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলার সকল স্থানীয় সাংবাদিক ও বিক্ষুদ্ধ স্থানীয় জনতা হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের প্রতি ক্ষোভে ফুসে উঠেন। এমন পরিস্থিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ ফজলে রাব্বীর কাছেই ছিনিয়ে নেয়া মুঠোফোন রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহল সহ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মৃত কালাচাঁদ সরকারের ছেলে বিপুল সরকার জানান, প্রায় ঘন্টা ব্যাপী আমার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃক কোন সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে নাই। আমরা নিজ উদ্যোগে নওগাঁ থেকে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসে বগুড়ায় নিয়ে যায়।
উপজেলা সদর তালশন গ্রামের বাসিন্দা আবু তালেব দুলাল, রেজাউল করিম বাপ্পি সহ অসংখ্য ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আদমদীঘি হাসপাতালে ভালো কোন চিকিৎসা হয় না। হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ ফজলে রাব্বীসহ অনেক স্টাফ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী স্বজনদের সাথে দূর্ব্যবহার করে থাকেন। আমরা এই ডাক্তারের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি সহ অতি দ্রুত আদমদীঘি হাসপাতাল থেকে বদলীর দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডাঃ ফজলে রাব্বীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ চেষ্টা করেও ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি