• বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন
Headline
এমপি হিসেবে শপথ নিলেন নুসরাত তাবাসসুম সৈয়দ নজরুল মেডিকেলে সকালের নাস্তায় পাউরুটির সাথে দেয়া হল কাঁচকলা: মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ক্ষোভ বহর থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঈদযাত্রায় চলবে ১০ জোড়া স্পেশাল ট্রেন, কোন রুটে কখন? সরকার গঠনের ৪৫ দিনেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য ‘জমি’ দেবে বিজেপি: এনডিটিভি শাপলা গণহত্যার ইতিহাস জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করাসহ ৫ দফা দাবি হেফাজতের সরকার গঠনে কংগ্রেসের পর আরেক দলের সমর্থন চাইলেন বিজয় ঢাকা-তাশখন্দ রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অনুরোধ জানালেন অর্থমন্ত্রী জালালুর রহমান আকনের জন্মদিনের শুভেচ্ছা কাঁঠালিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রুবেল মোল্লাকে চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা

এপ্রিলে সর্বোচ্চ জ্বালানি আমদানি, সংকট কি পুরোপুরি কেটেছে!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে মার্চে দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও এপ্রিলজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ আমদানি পরিস্থিতিকে অনেকটাই স্বাভাবিক করেছে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে এই স্বস্তি কতটা টেকসই, আর সংকট কি সত্যিই পুরোপুরি কেটে গেছে?

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), চট্টগ্রাম বন্দর ও শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। মাসের শেষ দিন ৩০ এপ্রিল সকালেও ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। ওই সময় বন্দর জেটি ও বহির্নোঙরে আরও আটটি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছিল।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ মাসে ১৪টি জাহাজে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ টন ডিজেল আমদানি করা হয়। এ ছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আরও ৪০ হাজার টন ডিজেল আসে। দৈনিক ১২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা হিসেবে এই সরবরাহ দিয়ে প্রায় ৪০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

একই সময়ে তিনটি জাহাজে ৭৯ হাজার ৩৬৪ টন অকটেন এসেছে, যা দৈনিক ১ হাজার ২৫০ টন হিসেবে প্রায় ৬৩ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। দুই জাহাজে ৪৬ হাজার ৫৯৬ টন জেট ফুয়েল-১ আমদানি হয়েছে, যা দৈনিক ১ হাজার ৫০০ টন হিসেবে ৩১ দিনের জোগান দিতে সক্ষম।

তবে ফার্নেস অয়েলের আমদানি তুলনামূলক কম। মার্চে এক জাহাজে ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েল এসেছে, যা দৈনিক ২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা অনুযায়ী মাত্র ১০ দিনের জোগান দিতে পারে।

বিপিসি বলছে, এ খাতে আগের মজুদ থাকায় নতুন করে বেশি আমদানির প্রয়োজন হয়নি।

পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর ফলে বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতিও শক্তিশালী হয়েছে। বিপিসির হাতে স্টোরেজ ও জাহাজ মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল মজুদ রয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল নিয়েও দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও, ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন কমে এসেছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, মে মাসের জন্য আরও ১৭টি জাহাজে প্রায় ৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ মের মধ্যে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এটি এসে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারি পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট ছিল না। প্যানিক বায়িংয়ের কারণে সাময়িক কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল। সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়েছে এবং মে মাসেও সরবরাহ নির্বিঘ্ন থাকবে।

একইভাবে বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে এই স্বস্তির স্থায়িত্ব। ফলে আমদানি ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category