বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), চট্টগ্রাম বন্দর ও শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। মাসের শেষ দিন ৩০ এপ্রিল সকালেও ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। ওই সময় বন্দর জেটি ও বহির্নোঙরে আরও আটটি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছিল।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চ মাসে ১৪টি জাহাজে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ টন ডিজেল আমদানি করা হয়। এ ছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে আরও ৪০ হাজার টন ডিজেল আসে। দৈনিক ১২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা হিসেবে এই সরবরাহ দিয়ে প্রায় ৪০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
তবে ফার্নেস অয়েলের আমদানি তুলনামূলক কম। মার্চে এক জাহাজে ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েল এসেছে, যা দৈনিক ২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা অনুযায়ী মাত্র ১০ দিনের জোগান দিতে পারে।
বিপিসি বলছে, এ খাতে আগের মজুদ থাকায় নতুন করে বেশি আমদানির প্রয়োজন হয়নি।
পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর ফলে বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতিও শক্তিশালী হয়েছে। বিপিসির হাতে স্টোরেজ ও জাহাজ মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টন ডিজেল মজুদ রয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল নিয়েও দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও, ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির লাইন কমে এসেছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, মে মাসের জন্য আরও ১৭টি জাহাজে প্রায় ৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ মের মধ্যে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এটি এসে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারি পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে ফিরবে। এতে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রকৃত কোনো জ্বালানি সংকট ছিল না। প্যানিক বায়িংয়ের কারণে সাময়িক কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল। সরকারের পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়েছে এবং মে মাসেও সরবরাহ নির্বিঘ্ন থাকবে।
একইভাবে বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে এই স্বস্তির স্থায়িত্ব। ফলে আমদানি ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।