• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
কোনো ষড়যন্ত্র দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শোভাযাত্রায় তারেক রহমান নতুন প্রজন্মকে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল: শাবি উপাচার্য আদমদীঘিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হৃদয়ের ম্যাজিকাল ২৪২*, বাংলাদেশ থামল ৩৮৬-তে কাঁঠালিয়া থানার ওসির বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ ​কাঁঠালিয়ায় বিরোধীয় জমিতে রাতের আঁধারে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ নানা আয়োজনে মৌলভীবাজারে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত কাঁঠালিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গাছ কাটা ও ফল চুরির অভিযোগ, থানায় জিডি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের জবাব ঐক্যবদ্ধভাবেই দেওয়া হবে: তারেক রহমান

এক্সপ্লেইনার হরমুজে কেন ভারত, চীন, কাতার ও ইরাককে ছাড় দিচ্ছে ইরান

আলজাজিরা / ৬ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। তবে ভারত, চীন, কাতার ও ইরাকের জাহাজকে এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই চারটি দেশকে বিশেষ ছাড় দিচ্ছে ইরান? এর বিনিময়ে দেশগুলো থেকে কী পাচ্ছে তারা? আর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে এসব দেশের জাহাজ আদৌ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে কি না?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এরপর জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবার নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে চারটি দেশকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেবল বাণিজ্যিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।

তাদের মতে, এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কৌশলকে দুর্বল করার বিষয়ও জড়িত।

আল-জাজিরার এক বিশ্লেষণে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে।

ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে কী পাচ্ছে ইরান?

ইরানের আইনপ্রণেতা হায়াত মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, ভারত থেকে ওষুধ এবং চীন থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাবে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে আসা কাতারের কাছ থেকেও ইরান ইতিমধ্যে কূটনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে।

মোগাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য মাশুল আদায় করবে ইরান। তবে কাতারের জাহাজকে কোনো মাশুল দিতে হবে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে মাশুল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকারবিষয়ক বিভাগের সহযোগী গবেষক এবং ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক রুজবেহ পারসি আল-জাজিরাকে বলেন, আইনপ্রণেতারা যে যুক্তি দিচ্ছেন, সেটি এক বিষয়। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো, এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে কি না এবং হলে কতটা হবে।

তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। ফলে পণ্য বিনিময় এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক পক্ষের কাছ থেকে অন্য পক্ষের সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য নতুন নয়। তবে এবার পার্থক্য হলো, অবরোধের মধ্যে ফাঁক তৈরি করে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা আনা-নেওয়ার চেষ্টা করছে তেহরান।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির ধারণা, যেসব জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর কাছ থেকে ইরান সম্ভবত মাশুল অথবা পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আদায় করছে।

অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ও নিরাপত্তা-বিষয়ক বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই আল-জাজিরাকে বলেন, কয়েকটি কারণে ইরানের এই পদক্ষেপকে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল বলা যায়।

তাঁর মতে, পরিকল্পনাটি সফল হলে ইরানের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হবে। কারণ, চীন ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কেনে চীন।

পাশাপাশি কাতার ও ভারতকে এই ছাড়ের আওতায় এনে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকৌশলের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন দুর্বল করার চেষ্টা করছে ইরান। কাতারকে কোনো মাশুল না দেওয়ার সুযোগ দেওয়াও এ কৌশলের অংশ বলে মনে করেন পুস্তাই।

চারটি দেশের কাছে হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চারটি দেশই পণ্য রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর কাছে এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বালানিবিষয়ক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক মিউই সু আল-জাজিরাকে জানান, গত অক্টোবর মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে।

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক রুজবেহ পারসির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ার সক্ষমতা চীনের সবচেয়ে বেশি। তবে এ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সামনে বড় প্রশ্ন হলো, এমন সিদ্ধান্তের কারণে সম্ভাব্য রাজনৈতিক মূল্য দিতে তারা প্রস্তুত কি না।

এশিয়ার দেশগুলো সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা উপসাগরীয় তেল ও গ্যাসের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ার বিনিময়ে এসব দেশের ইরানকে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক সুবিধাও রয়েছে।

পারসি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের জন্য বড় ক্ষতি। অন্যদিকে দেশটি এমন সব ওষুধের বড় উৎপাদক, যেগুলো ইরান নিজে তৈরি করতে পারে না। ফলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে কাতার। দেশটি গত আগস্টে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করতে পারেনি। তবে অক্টোবরে ১৮ লাখ টন এলএনজি পরিবহন করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান কেপলারের বিশ্লেষক মিউই সু।

একই সময়ে কাতারের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পরিমাণও কমেছে। আগস্টে প্রতিদিন ৫ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহন করলেও অক্টোবরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে।

অন্যদিকে ইরাকের ক্ষেত্রে চিত্রটি উল্টো। দেশটির তেল পরিবহনের পরিমাণ আগস্টের প্রতিদিন ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে অক্টোবরে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের উৎস শনাক্ত করতে গিয়ে কেপলার প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০ লাখ ব্যারেলের উৎস নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে কাতার ও ইরাকের প্রকৃত তেল পরিবহনের পরিমাণ প্রকাশিত হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।

পারসির মতে, ভারত ও কাতার—দুই দেশেরই ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক বজায় রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্পের কাছ থেকে উভয় দেশই হতাশ হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও কাতারের জন্য জরুরি। কারণ, ভৌগোলিক বাস্তবতায় ইরানকে এড়িয়ে চলার সুযোগ দেশটির নেই।

পারসি বলেন, ইরানের এই ছাড় থেকে চারটি দেশই অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে।

এ ঘোষণা কি একেবারেই নতুন?

পুরোপুরি নতুন নয়। যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা কয়েকটি দেশের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে শুরু করে। এপ্রিলে ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাককে এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।

অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুস্তাইয়ের মতে, ইরাককে এই ছাড় দেওয়ার পেছনে তেহরানের উদ্দেশ্য হতে পারে প্রতিবেশী দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা। ইরান ও ইরাক—দুই দেশই সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠীর দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পেরিয়ে চলতে পারবে জাহাজগুলো?

এটি অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দর থেকে প্রবেশ ও বের হওয়া সব দেশের সব জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে। তবে ইরানের কোনো বন্দরে না যাওয়া জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে না।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, পরিদর্শনের পর মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাবে। এর মধ্যে বেসামরিক মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের চালানও রয়েছে।

তবে ইরানের আইনপ্রণেতা হায়াত মোগাদ্দামের বক্তব্যে চার দেশের জন্য দেওয়া ছাড়কে শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য করা জাহাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি বলে মনে করেন উলফগ্যাং পুস্তাই।

তিনি বলেন, বিষয়টি যদি সত্যিই এমন হয়, তাহলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর ওপরও এর বড় প্রভাব পড়বে।

পুস্তাইয়ের মতে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের এই পদক্ষেপ মেনে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে অবরোধের কার্যকারিতাও কমে যাবে। কারণ, এ ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের জাহাজ ইরান থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া এবং ইরানে পণ্য নিয়ে আসার সুযোগ পাবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যবস্থা মেনে নেবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

এ ছাড়া ‘এই দেশগুলোর জাহাজ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা-ও পরিষ্কার নয়। জাহাজের জাতীয়তা বা পতাকা, মালিকানা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নাকি অন্য কোনো সম্পর্কের ভিত্তিতে ছাড় দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেনি ইরান।

নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা তেহরানের অন্যতম দাবি। এ দাবি পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চায় না ইরান। এসব আলোচনায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কাতারের মধ্যস্থতায় বর্তমানে যে আলোচনা চলছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের একটি প্রস্তাব। এতে সাতটি শর্ত পূরণের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

পুস্তাইয়ের মতে, ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচলের প্রশ্নটিকে তেল রপ্তানি ও পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্ন থেকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে, তেহরানের এই কৌশল কতটা সফল হয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে কি প্রভাব পড়বে?

ইরানের এই সিদ্ধান্তে আপাতত আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিনিয়োগ ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইজি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্প আল-জাজিরাকে বলেন, বর্তমানে এই ছাড়ের প্রভাব সীমিতই থাকবে।

তিনি বলেন, বাজার এখন আবার শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে হিসাব-নিকাশ করছে। তবে সংঘাত যদি আবার পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়, তাহলে ইরানের সামরিক কমান্ডারদের পক্ষে হামলার লক্ষ্যবস্তু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এত সূক্ষ্ম পার্থক্য বিবেচনা করার সুযোগ নাও থাকতে পারে। আপাতত বাজারের প্রধান মনোযোগ বৃহত্তর শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার দিকে।

এদিকে ইরানের ছাড় পেলেও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না। গত ৩০ অক্টোবর কাতারের এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ উপসাগরে অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে আঘাতের শিকার হয়। জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি এ তথ্য জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই অঞ্চলে ১২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে গত অক্টোবরে।

ফলে চারটি দেশকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা তৈরি করলেও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং বৃহত্তর শান্তিচুক্তির আলোচনা এই নৌপথের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category