• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
Headline
নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের টেকনাফে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনা সদস্য আহত শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী নলডাঙ্গায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ তৈরির প্রত্যাশা সান্তাহারে ইয়াবা ও গাঁজাসহ তালিকাভুক্ত দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রাণীনগর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে রশিদ ছাড়াই নেওয়া হচ্ছে এক্সরে-আলট্রার টাকা, নয়ছয়ের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিস আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় পরীমনির মুচলেকা দিয়ে জামিন পেলেন পরীমনি সিইপিজেডে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বেপজার বৈঠক

নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাসস / ৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: বাসস

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেছেন, নারীর অগ্রগতি শুধু কতজন নারী শীর্ষ পদে পৌঁছেছেন, তা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং আরও কত নারী তাদের অনুসরণ করার সুযোগ পাচ্ছেন, বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের নারীদের জন্য সুযোগ কতটা উন্মুক্ত হচ্ছে এবং তাদের নেতৃত্ব কর্মক্ষেত্র ও সমাজে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তার ওপরই প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করে।

আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ওম্যান লিডারশিপ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শো’তে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত এ আলোচনায় নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। অথচ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশের বিপুলসংখ্যক নারী এখনো মূলধারার অর্থনীতি থেকে পিছিয়ে রয়েছেন। বাল্যবিয়ে, শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাব নারীদের সম্ভাবনা বিকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২৫ সালের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের হার ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৮০ দশমিক ৪ শতাংশ। দেশের ৯০ হাজার ৪৯টি গ্রামের কোটি কোটি নারী এখনো অর্থনীতির মূলধারায় পর্যাপ্তভাবে যুক্ত হতে পারছেন না।

শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যানবেইসের ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ ছাত্রী ঝরে পড়ে। উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের হারও মাত্র ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। তাই বিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীদের জন্য ধারাবাহিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জুবাইদা রহমান বলেন, শুধু ডিগ্রি অর্জন করলেই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না। নারীদের সাক্ষরতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতায় শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রশ্ন করা, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকার স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলেন।

দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করে এই চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে তারা যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা, সহমর্মিতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার মানসিকতা অর্জন করছে।

নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, একজন নারীর আয়, সঞ্চয় এবং নিজস্ব আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তার ব্যক্তিগত সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের সামগ্রিক সক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা শুধু আয়ের বিষয় নয়; বরং নিজের ভবিষ্যৎ নিজে গড়ে তোলার ক্ষমতা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান জানান, প্রায় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি নারী ও শিশুর উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নারীদের কর্মজীবন নির্বিঘ্ন করতে দেশজুড়ে ডে-কেয়ার সেন্টার বা দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন।

তাঁর মতে, পারিবারিক দায়িত্ব কোনো নারীর ক্যারিয়ার ও পেশাগত অগ্রগতির পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরে আসার সুযোগও নারীদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

প্রযুক্তির পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সেবা ও নতুন প্রযুক্তি কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনের অর্থনীতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনী হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, নারীর অগ্রগতি নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেয়েদের বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জুবাইদা রহমান বলেন, নারীদের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি তাদের পথকে অহেতুক কঠিন করে তোলা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আকাক্সক্ষাকে সুযোগে, সুযোগকে নেতৃত্বে এবং নেতৃত্বকে বাংলাদেশের জন্য টেকসই প্রভাবে রূপান্তর করা সম্ভব।

অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ ও মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া মডারেটর ও প্যানেলিস্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্যানেল স্পিকার ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।

প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের অ্যাক্টিং ডেপুটি চিফ অব মিশন তৃশিতা মোওলা, শেভরন বাংলাদেশের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ওরাকল-এর বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category