খুলনার তেরখাদা উপজেলার ইখড়ি গরুর হাটকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ রাজস্ব ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালনা করছে। অথচ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে সামান্য অংশ। এতে সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাটে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ প্রশাসনের জন্য উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, খাস কালেকশনের হিসাব অডিট এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাট-বাজার কেন্দ্র করে রাজস্ব ফাঁকি ও সিন্ডিকেট সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। ইখড়ি গরুর হাটে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে এটি একটি ‘দৃষ্টান্তমূলক ব্যর্থতা’ হয়ে দাঁড়াবে। সরকারি হিসাব ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইখড়ি গরুর হাট থেকে খাস কালেকশন আদায় হয়েছে মাত্র ৫৬ হাজার ১০০ টাকা। অথচ গত বছর হাটটির ইজারা মূল্য নির্ধারিত ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ ,প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা থাকলেও বাস্তবে আদায় হচ্ছে তার কয়েকগুন কম। যার ফলে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ওই হাট হতে প্রায় ২ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের ভাষায়, “এটা হাট না, যেন রাজস্ব লুটের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে।” স্থানীয়দের আরও অভিযোগ রয়েছে, ইখড়ি গরুর হাটকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র গড়ে উঠেছে, যারা সম্প্রতি সময়ে ওই হাটের রাজস্ব আদায়কে নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, স্থানীয় বিএনপি নেতা সরদার আব্দুল মান্নান, মিল্টন মুন্সি, মাহাবুর মোল্যা, জাফর চৌধুরী, সাজ্জাদ আহম্মেদ নান্টা মোল্যা এবং ইকরাম হোসেন জমাদ্দার হাটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন এবং তাদের প্রভাবেই নিয়মিত রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “হাটে গরু ওঠানামা, বেচাকেনা, ইজারা আদায়Ñসবকিছুই একটা রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক বড় অঙ্কের টাকা হাতবদল হচ্ছে, কিন্তু সরকারি রসিদে দেখা যায় নামে মাত্র। সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব। এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মিল্টন মুন্সি জানান, গত বছরে আমি ইজারা নিয়েছিলাম ,তবে এ বছর নয়। তবে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আমার কিছু জনবলের সহযোগিতায় খাস কালেকশনে করা হচ্ছে। তবে কত টাকা কালেকশন হচ্ছে তা আমি বলতে পারবো না। তেরখাদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, “সরকারি রাজস্ব যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সরকারি কোষাগারে যথাযথ রাজস্ব জমা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। খাস কালেকশন নিয়ে কোন অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তেরখাদা উপজেলা নবাগত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা সুলতানা জানান, উপজেলায় নতুন দায়িত্ব গ্রহন করেছি। অভিযোগের বিষয়ে হাট সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবো। কোন অনিয়ম হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।