দেউন্দি টি কোম্পানী লিমিটেডের অধীনস্থ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিংগা চা বাগানে সাম্প্রতিক সময়ে গাছ ও অবকাঠামো চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় বাগান কর্তৃপক্ষ যেমন দুশ্চিন্তায় পড়েছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান।
বাগান কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, মিরতিংগা চা বাগান প্রতিবছর সরকারের কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব প্রদান করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ২ এপ্রিল ৩টি এবং ১৬ এপ্রিল একটি ছায়া বৃক্ষ চুরি হয়। এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঘটনাগুলো স্থানীয় থানায় লিখিতভাবে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার ফলে কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেই স্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
এদিকে গত ২২ এপ্রিল বুধবার গভীর রাতে আবারও বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মিরতিংগা চা বাগানের ১৮ নম্বর সেকশন থেকে ২০ নম্বর সেকশন পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে অবস্থিত সদ্য রোপিত ৭১টি একাশিয়া প্রজাতির ছায়া বৃক্ষ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। পরে কাটা গাছগুলো ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছায়া বৃক্ষ চা বাগানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব গাছ বাগানের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে এবং চা গাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ফলে এ ধরনের নির্বিচার বৃক্ষ নিধন বাগানের উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশ উভয়ের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সেকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চৌকিদারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা কোনো সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তাদের নামের তালিকাসহ বিষয়টি কমলগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছে।
এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বাগানটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ইউপি সদস্য ধনা বাউরী ও মিরতিংগা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মন্টু অলমিক চা বাগান থেকে দুর্বৃত্তরা ছায়া বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তক্রমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
মিরতিংগা চা বাগানের ডেপুটি ব্যবস্থাপক রেজাউল হায়াত খান (ইমন) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। বাগান পঞ্চায়েত ও সাধারণ চা শ্রমিকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবী করছেন। চা শিল্প রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে ছায়াদানকারী বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে।