কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার আবু ছালেক (৪৫), দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. হোসাইন চৌধুরী (৪২), দক্ষিণ পাইন্দং এলাকার মো. সেনাউল করিম (৪০) ও লেলাং এলাকার আবু তাহের মুহুরী (৪৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ অর রশিদ চৌধুরীর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এজাহারনামীয় চার আসামিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি।
এ সময় তারা মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে মাসুদকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে তার বোন সায়রা আক্তার এগিয়ে এলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে হামলাকারীরা মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বসতঘরে আটকে রেখে বাড়ির গেট, তালা ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং চাঁদা না দিলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করে লাশ গুম করা ও বসতভিটা দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরও আসামিরা বাড়ির সামনে মহড়া দিয়ে হুমকি অব্যাহত রাখছেন—এমন অভিযোগে নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে গত ৯ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ অর রশিদ চৌধুরী।
মামলার বাদী মোহাম্মদ মাসুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রায় অর্ধশত বছর ধরে পৈতৃক ভিটাবাড়িতে বসবাস করছেন। তবে আসামিরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়ে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘটনার দিন ভোরে ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পরিবার নিয়ে তারা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে প্রায় ৪৫ বছর ধরে আইনি লড়াই চলছে। বাদীপক্ষ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছে—সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতিবেদনে তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আইনজীবী আরও বলেন, ওই জমির ওপর স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) বজায় রাখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তবে আদালতের ওই নির্দেশনা অমান্য করে আসামিরা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জমিটি বেদখল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।