• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline
ইসরাইলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, কত আসন পেল নেতানিয়াহুর দল? নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফুটপাতে চাঁদাবাজি বন্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ২০ বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা চাওয়ায় রেস্টুরেন্টে তালা লাগানোর অভিযোগ আজকের নামাজের সময়সূচি ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, আরবরাই কিং মেকার বিইআরসির গণশুনানি ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু, হেফাজতে বন্ধু দীপ জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

বিইআরসির গণশুনানি ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

বারো কেজি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম ৭.৫৭ শতাংশ বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এলপিজির দাম পুনর্নির্ধারণে বিইআরসি আয়োজিত দিনব্যাপী গণশুনানিতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ সুপারিশ পেশ করা হয়।

যদিও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা এ দাম ২১.৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২,২৩২ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন। চলতি অক্টোবরের শুরুতে এ দাম ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বিইআরসি। যদিও বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,১০০-২,৩০০ টাকায়।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদের সভাপতিত্বে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে গণশুনানিতে কমিশনের পক্ষে সদস্য (অর্থ, প্রশাসন ও আইন) আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান, সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব), বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সাসটেইনেবল এনার্জি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন্স (সেরা), এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস লিমিটেড এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য তুলে ধরেন।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ বলেন, সাধারণ মানুষ যেন যৌক্তিক মূল্যে এলপিজি পায় এবং ব্যবসায়ীরা যাতে লোকসানের শিকার না হন, আমরা দুদিকে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।

আগের মতোই মাসের প্রথম সপ্তাহে মূল্য ঘোষণা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, যাতে ১-২ তারিখে মূল্য ঘোষণা করতে পারি। এজন্য সবপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করব। যেসব আমদানিকারক ব্যাংকিং সমস্যার কারণে এলসি খুলতে পারছেন না, তারা যাতে দ্রুত এলসি খুলতে পারেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে আমরা সে ব্যবস্থা করব।

এদিকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭৮ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেয় বিভিন্ন কোম্পানি। এর মধ্যে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়।

অন্যদিকে, পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেন।

সভার একপর্যায়ে এলপিজি সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি ও কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া এবং বাজার অস্থিতিশীল করার সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাঁচ কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে শুনানি বয়কট করেন অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান।

ব্যবসায়ীদের মাফিয়া বলায় হট্টগোল

এদিকে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ‘মাফিয়া’ অভিহিত করাকে কেন্দ্র করে বিইআরসির গণশুনানির শেষদিকে হট্টগোল হয়েছে। শুনানিতে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সদস্য শাহ আলম সরকার বলেন, ‘বিইআরসি একটা দাম নির্ধারণ করেই দায়িত্ব শেষ করে দেয়। এলপিজি ব্যবসায়ীরা গ্রাহকের কাছ থেকে তাদের ইচ্ছামতো দাম আদায় করেন। এসব মাফিয়া ডনদের নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই।’

এ সময় ‘মাফিয়া’ শব্দ ব্যাপারে আপত্তি তোলেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল। তিনি শাহ আলমকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি তাদের মাফিয়া বলতে পারেন না।’ তার এ আপত্তির প্রতিবাদ জানিয়ে শাহ আলম বলেন, ‘পত্রিকাগুলো তাদের অহরহ মাফিয়া বলছে। মানুষের অধিকার নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলছে। ১,৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। আপনারা কেবল দাম ঘোষণা করেই বসে আছেন। তাদের মাফিয়া বলব না, তো কী বলব?’

এ সময় জালাল আবারও জোর দিয়ে বলেন, ‘পত্রিকাগুলো তাদের মাফিয়া বললেও আপনি বলতে পারেন না, অন্তত এখানে বলবেন না।’ বিইআরসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত সাধারণ শ্রোতারা। বিইআরসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে কেউ কেউ এমনও বলেন, ‘আপনি এখন বিচারকের আসনে আছেন। কেন ব্যবসায়ীদের পক্ষে ওকালতি করছেন?’

এতে কিছু সময়ের জন্য হলরুমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের একাংশ শাহ আলমকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আবার তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান ক্যাবসহ অন্য সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা। অবশ্য স্বল্প সময়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় কমিশন।

অর্থনীতি সমিতির ক্ষোভ

আলোচনায় অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে পাঁচটি এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চায় অর্থনীতি সমিতি। এছাড়া অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে বিইআরসি কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটি তিনি জানতে চান।

তিনি বলেন, এক মাসে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে বলে তাদের দাবি। এ অবস্থায় খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করেই কি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি বৈধ হয়ে গেছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনটি। বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন নিষ্পত্তি না করা, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রির ঘটনায় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে শুনানি বয়কটের ঘোষণা দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category