চট্টগ্রাম নগরের আতুরার ডিপো এলাকায় একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছিল খাবার। খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল রাসায়নিক রং। খাদ্যপণ্যের মধ্যে ছিল তেলাপোকার অবাধ বিচরণ। একই এলাকায় অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে নকল ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য এবং মোড়কে মেয়াদের তথ্য না থাকার মতো অনিয়ম। এসব অনিয়মের দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহর নেতৃত্বে আতুরার ডিপো সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমানসহ অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম পাওয়া যায় মেসার্স তৃপ্তি ফুডস প্রোডাক্টে। প্রতিষ্ঠানটিতে খাবার তৈরিতে রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ ছাড়া অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্যপণ্যের মধ্যে তেলাপোকার অবাধ বিচরণ দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারীরা। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় নিউ খাজা আজমির স্টোরে নকল ডানো ক্রিম বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার নিষিদ্ধ পণ্য এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত কেওড়া জল ও গোলাপজল বিক্রি করা হচ্ছিল। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, মাবিয়া বেকারিতে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মোড়কে মেয়াদের তথ্য উল্লেখ না করেই সেগুলো বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো, ভেজাল ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্যের বিক্রি প্রতিরোধ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।