মৌলভীবাজারে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের বিষাদমাখা পরিবেশে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হওয়ায় সম্প্রীতির জেলা হিসেবে মৌলভীবাজার আবারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। মৌলভীবাজারেও উৎসবের দিনগুলোতে সেই সম্প্রীতির চিত্র দেখা গেছে।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পূজামণ্ডপগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ষষ্ঠী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনই পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পূজার অঞ্জলি, ঢাকের বাদ্য, কাসরের ঘণ্টা, আরতি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপগুলো। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উৎসব উপভোগ করেন নানা বয়সী মানুষ। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবটি পরিণত হয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায়।
ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে যান ভক্তরা। সেখানে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। একদিকে উৎসবের সমাপ্তির আনন্দ, অন্যদিকে এক বছরের জন্য দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা দুইয়ের মিশেলে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ।
পল্লী চিকিৎসক ,শ্রী উত্তম দেবনাথ জানান ,প্রতিবছর উৎসব মুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব হলেও এ বছর উৎসব একটু বেশি হয়েছে। সপ্তমী দু দিন হওয়ায় পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছ দিন দুর্গোৎসব হওয়ায় উৎসবের পরিমাণও বেশি ছিল।
মৌলভীবাজার পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুনিল কুমার দাশ জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজার শুরু থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পুরো আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।এ ছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে কোস্ট গার্ড, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপি।
এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় সাত উপজেলায় এবার সর্বজনীন ৮৯৮টি ও ব্যক্তিগত ১২৪টিসহ মোট ১ হাজার ২২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি ও শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি মণ্ডপ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট সকলকে পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়।