• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন
Headline
সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে সিপিবির কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ আজকের নামাজের সময়সূচি (২৮ অক্টোবর) স্থলভাগে প্রবেশ করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

বাঁশবুনিয়ায় পাকা ধান রক্ষায় কৃষকের অভিনব কৌশল

​ঝালকাঠি প্রতিনিধি / ৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

​ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে পাখির আনাগোনা। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ ও গবাদিপশুর বিচরণেও থাকে ক্ষতির আশঙ্কা। শেষ মুহূর্তে এসব ঝুঁকি এড়াতে ব্যতিক্রমী এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার এক কৃষক। ৩৩ শতক জমির পাকা ধান রক্ষায় চারপাশসহ পুরো খেত নেটজাল দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন তিনি।

​উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের বাঁশবুনিয়া এলাকায় দেখা গেছে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহের মধ্যে কৃষক নিল রতন হাওলাদারের জমিতে এখন সোনালি ধান। আর সেই ধান নিরাপদে ঘরে তুলতে জমির চারপাশ ও ওপরের অংশে নিখুঁতভাবে টানানো হয়েছে নেটজাল।

​সরেজমিনে দেখা যায়, জমির চারদিকে খুঁটি পুঁতে নেটজাল বসানোর পাশাপাশি ওপরের অংশও ঢেকে দেওয়া হয়েছে। নিচ দিয়ে যেন কোনো গবাদিপশু প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে পাখির উপদ্রব ও গবাদিপশুর মাধ্যমে ফসল বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে।

​কৃষক নিল রতন হাওলাদার জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ব্রিধান-৮৭ জাতের আগাম ধান চাষ করেছেন তিনি। ৩৩ শতক জমিতে ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। তবে ধান পাকার পর পাখির আক্রমণ ও অন্যান্য কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শেষ মুহূর্তে কঠোর পরিশ্রমে ফলানো ফসল রক্ষা করতে নেটজাল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

​নিল রতন হাওলাদার আরও বলেন, “ধান চাষে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে ক্ষতি হলে সব পরিশ্রমই পণ্ড হয়ে যায়। তাই কিছুটা বাড়তি খরচ হলেও নেটজাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। নিরাপদে ফসল ঘরে তুলতে পারলে আমার কষ্টের সার্থকতা।”

​স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাখির হাত থেকে ধান বাঁচাতে তাঁরা সাধারণত কাকতাড়ুয়া বা উজ্জ্বল ফিতা ব্যবহার করেন। তবে পুরো জমি নেটজাল দিয়ে ঢেকে ফেলার ঘটনা এই এলাকায় একেবারেই নতুন। ফলে নিল রতন হাওলাদারের এই নতুন কৌশল দেখতে প্রতিদিন আশপাশের অনেক কৃষকই তাঁর খেত দেখতে আসছেন।

​এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, ধান পাকার মৌসুমে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। এ ক্ষতি কমাতে কৃষক নিল রতন হাওলাদারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সঠিকভাবে নেটজাল ব্যবহার করা গেলে ফসল সুরক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় অন্য কৃষকেরাও এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন।

​তিনি আরও বলেন, কষ্টার্জিত ফসল নিরাপদে ঘরে তোলা কৃষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফসল রক্ষায় এমন সচেতনতা ও নতুন পদ্ধতি গ্রহণের মানসিকতা দেশের কৃষি খাতের জন্যই ইতিবাচক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category