অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, একটি ভবনে অভিযান চলছে। তবে কীসের অভিযান, সেটি এখন জানানো সম্ভব হচ্ছে না। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।
অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি এবং সেখানে সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তাঁরা কী উদ্দেশ্যে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন, তা যাচাই করা হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিদের কেউ বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন কি না, তাঁদের ভিসার ধরন কী এবং তাঁরা কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, আটতলা ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত আনাগোনা ছিল। সেখানে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পাশাপাশি ক্যাসিনোসদৃশ কার্যক্রম চলার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ছিল।
জব্দ করা প্রায় ৭০টি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবনটিতে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। এসব ডিভাইসে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ কিংবা অনলাইন কার্যক্রমের কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কথিত ওই ক্যাসিনো বা জুয়ার আসরে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এখন পর্যন্ত ওই অর্থের পরিমাণ কিংবা লেনদেনের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করেনি পুলিশ।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের ভেতরে কী ধরনের ব্যবস্থা ছিল কিংবা সেখানে ক্যাসিনো পরিচালনার জন্য কোনো সরঞ্জাম পাওয়া গেছে কি না, তা সাংবাদিকদের সরেজমিনে দেখা সম্ভব হয়নি।
রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকায় বিদেশি নাগরিকদের ওই ভবনে অবস্থানের উদ্দেশ্য, কথিত ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা এবং বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের বিষয়গুলো এখনো পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর্যায়ে রয়েছে।