জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণকে টেকসই সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধু চারা রোপণের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, প্রতিটি চারার পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, ২০২৬ সালে মোট ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে নিজস্বভাবে উৎপাদিত প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ এবং নিজস্ব অর্থে সংগৃহীত প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা নিজ নিজ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চারা রোপণ করছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন এনজিও ২৫ লাখ চারা রোপণ করেছে। এসব তথ্য পাওয়া গেলে তা মূল ডাটাবেজে যুক্ত করা হবে। আগামী ডিসেম্বরে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির চারা রোপণের মাধ্যমে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সভায় জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও প্রতিবেশের উপযোগী দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নদী, খাল, বেড়িবাঁধ, সড়ক ও রেলপথের পাশে উপযোগী জমিতে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা চারার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে চারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত তা প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের পরবর্তী চার বছর চারার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে বলা হয়েছে।
সভায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগমসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।