• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
Headline
মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে বিকেলে ফের অভিযান বিএনপি-ছাত্রদলের দুর্দিনের বহু কাণ্ডারীও ভুক্তভোগী হচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ২০২৬ পালন। ৩৭তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদের পদোন্নতি অগ্রগতি কতদূর? ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপিত, আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ সরকারি বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে সরকার এতিমখানার ইলিশ ভাগাভাগি করে নিলেন মাদ্রাসাশিক্ষকসহ দুজন, জরিমানা ৮০ হাজার ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য  সরকার-বিএনপি গ্রহণ করেনি সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা, বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

১৬ দিনের শিশুকন্যাসহ সড়কে প্রাণ গেল বাবার, নিহত চারজন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পণ্যবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়েসহ চার জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত নয় জন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাঁশেরতল নামক এলাকায় কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ছাটগোপালপুর গ্রামের শামীম হোসেন (২৮), তার মেয়ে সাদিয়া (৮), শামীমের বন্ধু উত্তর তিলাই গ্রামের নুরনবী (২৮) এবং দক্ষিণ ধলডাঙা গ্রামের বাসিন্দা মাইক্রোচালক লিমন মিয়া (২৭)। শামীম পেশায় মুদি দোকানি। তিনি চিকিৎসার জন্য মেয়ে ও বন্ধু নুরনবীসহ কয়েকজন মিলে রংপুরে গিয়েছিলেন। তার ঘরে স্ত্রী ও ১৬ দিনের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। নুরনবী পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তার ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী থেকে ছেড়ে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা শামীম, তার মেয়ে সাদিয়া এবং মাইক্রোচালক লিমন মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আহত হন নারী-পুরুষসহ আরও ১০ জন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরনবী মারা যান। অন্যদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নিহত শামীমের ভাবি সুফিয়া বেগম জানান, ১৬ দিন আগে শামীম দ্বিতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন। কয়েকদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতা থাকায় মঙ্গলবার সকালে শামীম তার মেয়ে সাদিয়া, বড় ভাই বাবু, ভাবি তাইমুন নাহার এবং দুই বন্ধু নুরনবী ও হামিদুলকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে রংপুরে যান। চিকিৎসা শেষে রাতেই মাইক্রোবাসযোগে বাড়িতে ফেরার পথে বাবা-মেয়েসহ চার জন প্রাণ হারান।

সুফিয়া বেগম  বলেন, ‘শামীমের স্ত্রী একসঙ্গে স্বামী-সন্তান হারালো। তার বাকি জীবনটা কীভাবে যে কাটবে। ছোট বাচ্চাটা সারা জীবনের জন্য বাবা হারালো। আমরা এই শোক কীভাবে সইবো। ওর বন্ধুর পরিবারটাও শেষ হয়ে গেলো। তার বাচ্চা দুটা এতিম হয়ে গেলো।’

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে বাবা-মেয়েকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। বাবা-মেয়ের একসঙ্গে মৃত্যু ও পাশাপাশি দাফন এলাকায় এক শোকাবহ পরিবশে সৃষ্টি হয়। এর আগে বিকালে বন্ধু নুরনবী এবং মাইক্রোবাসচালক লিমনকে নিজ নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান  বলেন, ‘দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যুতে নিহত মাইক্রোচালক লিমনের চাচা বাদী হয়ে ট্রাকচালক ও তার সহযোগীকে আসামি করে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেছেন। ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category