প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এটি আজ রাতে উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এটি আজ (২ নভেম্বর) ভোর ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর বঙ্গোপসাগরে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়টির দেওয়া হয়েছিল ‘অর্ণব’। পরদিন বুধবার ভারতের পুদুচেরির কাকিনাডা ও ইয়ানামের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৭১৪টির বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রাণ যায় অন্তত তিনজনের।