মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হামলা ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. মোজাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবক। এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদ জাহিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই যুবক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মোজাহিদুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবং সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।
লিখিত বক্তব্যে মোজাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৫ অক্টোবর রাতে শ্রীমঙ্গল শহরের ছয়ঘর রোড এলাকায় অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দিক থেকে যাওয়ার সময় একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগ, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদ জাহিদ, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হোসেন এবং ফারদিন ইসলাম পিয়ালসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি অটোরিকশা থেকে নেমে যান এবং তাঁর এক আত্মীয়ের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে জানান।
মোজাহিদুল ইসলামের ভাষ্য, ঘটনার পরও তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নেতাদের জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত ন্যায়বিচার পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে মোজাহিদুল ইসলাম নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।