ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও উপ সহকারী প্রকৌশলী পৌর সভার আলাদা আলাদা কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ আকন্দ ২০২৫ সালের ১ জুলাই গফরগাঁও পৌরসভায় যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি পৌর সভার তিন তলার একটি কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন। অপরদিকে পৌরসভার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পনির হোসেন মোল্লা ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিলে যোগদান করেন। তারপর থেকে তিনিও এখানে আরেকটি কক্ষ দখলে নিয়ে বসবাস করছেন। এছাড়াও উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন তিনিও পাশের আরেকটি কক্ষে বসবাস করছেন। এই তিন কর্মকর্তা বেতনের সাথে বাড়িবাড়া পেলেও পৌর সভার তিনটি কক্ষ বিনামূল্যে দখল করে বসবাস করায় সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অফিসের বিদ্যুৎ, পানি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পারিবারিক কাজে ব্যবহারের ফলে সরকারি তহবিলের অপচয় ঘটছে।
সাধারণত সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় জনসেবামূলক কাজের জন্য বরাদ্দ থাকে। সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসিক বাসস্থান গড়ে তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সরকারি ভবন বা আবাসনে বসবাস করলে বিধিমত বাড়িভাড়া কর্তন করার নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না।
উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, আমি বাহিরেই ভাড়া বাসায় থাকতাম। কিন্তু অফিসের উর্ধ্বতনরা আমাকে এখানে থাকতে বলায় গত কোরবানীর ঈদের পর থেকে আমিও পৌরসভার একটি কক্ষে বসবাস শুরু করি।
হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পনির হোসেন মোল্লার জানতে চাওয়া হয় বাড়ি ভাড়া পেলেও কোন নিয়মে পৌর সভার কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আপাতত ফ্রিতেই থাকছি। কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দিতে বললে চলে যাব।
কীভাবে পৌরসভার কক্ষে বসবাস করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আকন্দ বলেন, পৌর মেয়র ও কাউন্সিলদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক একটি কক্ষে বসবাস করছি। আপনি যোগদানের বহু আগেই পৌর মেয়রসহ কাউন্সিলরগণ পলাতক তাহলে আপনি তাদের সিদ্ধান্ত পেলেন কোথা থেকে এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান।