• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

সরকার গঠনের পথে আইজেনকট, আশা শেষ নেতানিয়াহুর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

নেতানিয়াহুর চেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছেন আইজেনকেট। ছবি সংগৃহীত

ইসরাইলের সরকার গঠনের দৌড়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট অনেকটাই এগিয়ে গেছেন।

টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ৬৭ জন সংসদ সদস্য (এমকে) আইজেনকটের নাম সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের পরামর্শ বৈঠকে এই চিত্র উঠে আসে। এর ফলে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে আইজেনকট এগিয়ে রয়েছেন। তার সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম (ইউটিজে) ও জয়েন্ট লিস্ট পার্টির অবস্থান।

এর আগে ধারণা করা হয়েছিল, নেতানিয়াহুর পক্ষে ৫৩ জন এবং আইজেনকটের পক্ষে ৫৬ জন সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকতে পারে। তবে ইউটিজে নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট আকস্মিকভাবে আইজেনকটকে সমর্থনের ঘোষণা দেয়। এতে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।

তবে সুপারিশের এই সংখ্যা মানেই আইজেনকটের সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়া নয়। কারণ, তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুপারিশ করা ৬৭ জনের মধ্যে মাত্র ৪৮ জন শর্ত ছাড়াই একসঙ্গে জোট গঠনে প্রস্তুত। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর শিবিরে ইউটিজেসহ ৫৩ জনের সমর্থন রয়েছে।

এ ছাড়া জয়েন্ট লিস্ট ও ইউটিজে—কোনো দলই এখন পর্যন্ত আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সরাসরি সমর্থনের ঘোষণা দেয়নি। ফলে সরকার গঠনের বাস্তব সমীকরণ এখনো বেশ জটিল।

আইজেনকটের সামনে বড় বাধা হতে পারে ডানপন্থী ইসরাইল বেইতেনু পার্টি। দলটির নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর কোনো জোটে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে ইউটিজের সঙ্গে সমঝোতা করাও কঠিন। কারণ, দলটি অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে। আইজেনকটের শিবিরের অধিকাংশ দলই এর বিরোধী।

এদিকে আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন করলে নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা সেই সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন। নির্বাচনে আরব ভোট নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর এবার আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকারকে কেন্দ্র করেও প্রচার চালাতে পারে লিকুদ পার্টি।

ইসরাইলের রাজনীতিতে জোট গঠন ও দর-কষাকষিতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিপরীতে আইজেনকটের এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। ফলে ৬৭ জনের সুপারিশ পেলেও সরকার গঠনের পথে তাকে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি হতে হবে।

তবে আপাতত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকট। আর সরকার গঠনের দৌড়ে বড় চাপে পড়েছেন নেতানিয়াহু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category