• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ছেড়েছেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী ‘শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে হবে’ ইসলামী যুব আন্দোলন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাব বিশ্ববাজারে, কমল ডলারের দাম ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা কমার আশায় টানা চতুর্থ দিন কমল তেলের দাম চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ভূমিসেবায় হয়রানি বন্ধে উদ্যোগী এসিল্যান্ড আনিসুর রহমান শিল্পাঞ্চলে আজও থমথমে পরিস্থিতি, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ, কাজে ফিরছে শ্রমিকরা

৮০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনের পথে মৌসুমের প্রথম জাহাজ

কক্সবাজার প্রতিনিধি / ১০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

নানা জটিলতা কাটিয়ে শুরু নৌযাত্রা, প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স নিতে বাধা

সকল জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৮০০ জনের বেশি পর্যটক নিয়ে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা। তবে প্রথম দিনেই টিকিটের বাড়তি দাম ও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।

এর আগে ভোর ৬টা থেকে নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে আসতে শুরু করেন পর্যটকরা। সরকারের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। এ সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও সাউন্ডবক্স জাহাজে নিতে বাধা দেওয়া হয়। পরিবেশ সচেতনতায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘আজ ৮০০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে এ মৌসুমের প্রথম জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের অবসান হতে যাচ্ছে।’

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। দ্বীপের কেয়াবনে প্রবেশ, ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া, পার্টি আয়োজন ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো কার্যক্রমও করা যাবে না।

তিনি বলেন, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য সামগ্রী ঘাটে নির্ধারিত স্থানে রেখে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েকটি সাউন্ডবক্সও পর্যটকদের কাছ থেকে বুঝিয়ে নিয়ে জাহাজ মালিকদের কাছে রাখা হয়েছে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে চলতে সবাইকে অনুরোধ জানান তিনি।

পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, প্রথম দিন প্রায় ৮০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যা জাহাজের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। পর্যটকদের প্লাস্টিক ও সাউন্ডবক্স বহন না করাসহ পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের সব নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে জানানো হয়েছে।

প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন পর্যটক পপি সাবরিন জেসি। তিনি বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতির কারণে এর আগে কখনো সেন্টমার্টিন যাওয়া হয়নি। এবার প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন। মৌসুমের প্রথম দিন হওয়ায় আনন্দ ও উত্তেজনা আরও বেশি। অফিসারদের একটি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাদের গাইড হিসেবেও তিনি দ্বীপে যাচ্ছেন।

তবে প্রথম দিনের যাত্রায় আনন্দের পাশাপাশি ভোগান্তির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক হৃদয় বলেন, ‘এবারের মতো হয়রানি আগে কখনো হয়নি। অনলাইনে টিকিট কাটার পরও যদি ভোগান্তিতে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ পর্যটকদের কী অবস্থা হবে? এবার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। আগে ছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ টিকিটপ্রতি ৭০০ টাকা বেড়েছে। সবকিছুর দাম শুধু বাড়ছেই, কমছে না। এতে আমরা মর্মাহত।’

অন্যদিকে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. এস এম মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ। তাই এর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে পর্যটকসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

স্কুয়াব জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের অনুমতি পেয়েছে তিনটি জাহাজ। এগুলো হলো, এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায়, এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা। ফিরতি যাত্রায় জাহাজ তিনটি যথাক্রমে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট ও বিকেল সাড়ে ৩টায় সেন্টমার্টিন ঘাট ছাড়বে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি ৩৫০০ পর্যটকের রাতযাপনেরও সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা জটিলতা পেরিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুমের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category