বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আমার দেশকে বলেন, ডিজিপে প্ল্যাটফর্মটি দেশের বাইরে থেকে পরিচালনা এবং সেখান থেকে সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটিকে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় লাগবে। এ সময়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে ডিজিপেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিজিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাদের এনপিএসবি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জন্য তারা ভারতের একটি ভেন্ডরের (সরবরাহকারী) সেবা নিচ্ছিলেন। উন্নয়ন ও সফটওয়্যারের ত্রুটি সংশোধনের কাজের সুবিধার্থে ভারতীয় ভেন্ডরকে সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি। অথচ সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজে ভেন্ডরকে এ ধরনের প্রবেশাধিকার দেওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও ভারতীয় ভেন্ডরের সেবা নিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে বা পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। অডিটে কোনো আপত্তি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী চিঠি দিয়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
রাশেদ মাহমুদ বলেন, এনপিএসবি লেনদেন বন্ধ থাকলেও বিকল্প চ্যানেল চালু থাকায় গ্রাহকদের সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নিজেদের অর্থ বিনিয়োগ করে চার থেকে পাঁচ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। ফিনটেক খাতে বিনিয়োগের সুফল পেতে সাধারণত পাঁচ থেকে আট বছর সময় লাগে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসার উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে এ ধরনের জটিলতা সামলাতে হচ্ছে।
এনপিএসবি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত দেশের আন্তব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক। এটি রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিক ইলেকট্রনিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করে।
ডিজিপে সার্ভিসেস লিমিটেড ২০২৩ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) লাইসেন্স পায়।