নেতানিয়াহু যদি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হারান, তবে তাকে বেশ কিছু বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত দুর্নীতির অভিযোগে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। একই সঙ্গে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ধ্বংসাত্মক হামলায় যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ ব্যর্থতা দেখা দিয়েছিল, তার ওপর একটি আনুষ্ঠানিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হওয়াও নিশ্চিত হয়ে পড়বে।
এমনকি আরব দলগুলো সরকারে অংশ না নিলেও নেসেটে নেতানিয়াহুর বিরোধীদের সমর্থন দিয়ে তারা নিজেদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিশ্চিত করতে পারে। এর মধ্যে প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে একজন নতুন স্পিকার নির্বাচন করা, যা নেসেটের এজেন্ডা আরব দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে এবং নতুন সরকার গঠনের আগেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর পথ উন্মুক্ত করবে।
নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে তিনি আরব জোটের সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত। আরব নেতৃত্বাধীন যৌথ তালিকার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আহমেদ তিবি আর্মি রেডিওকে জানিয়েছেন, স্পিকার বদলের বিষয়ে বিরোধী জোট থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং তারা বিরোধীদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে যদি কোনো পক্ষই শেষ পর্যন্ত নতুন সরকার গঠনে সক্ষম না হয়, তবে আগামী বছরের শুরুতেই ইসরায়েলকে ফের নতুন আরেকটি সাধারণ নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের পরই বিতর্ক উসকে দিয়েছেন নেতানিয়াহুর দল। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির চূড়ান্ত গণনায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট হতেই লিকুদ পার্টি কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দাবি করতে শুরু করেছে যে, বিদেশী সহায়তায় আরব দলগুলো এই নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। নেতানিয়াহুর এমন দাবির তীব্র বিরোধিতা করে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে, নির্বাচনে আরবদের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর তাদের বৈধতা নষ্ট করতে এবং উদীয়মান ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নেতানিয়াহু ইচ্ছাকৃতভাবে আরব জনগোষ্ঠীকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন।
সূত্র: এনডিটিভি







