• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

বিদায়ের ক্ষণ গুনছেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের এ পর্যন্ত যে ফল পাওয়া গেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের ক্ষমতা হারানো অনেকটা নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট পরবর্তী নেসেটে (পার্লামেন্ট) ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১২০ আসনের পার্লামেন্টে অন্তত ৬১টি আসন।

এদিকে, আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বুধবার সন্ধ্যায় পাঁচ মিলিয়নের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে আনুষ্ঠানিক ভোট গণনা ৯০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়। তবে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যালট—যা ‘ডাবল এনভেলপ’ ব্যালট নামে পরিচিত—তখনো গণনা করা বাকি ছিল। এসব ভোটের মধ্যে সেনাসদস্য, হাসপাতালে থাকা রোগী, কারাবন্দি এবং নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনি কর্মকর্তা ও কর্মীর ভোট রয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে এসব ভোটের প্রভাব পড়তে পারে।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন পেতে পারে। এতে দলটি পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

নেতানিয়াহুর জোটের অন্য দলগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস এবং ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি করে আসন পেতে পারে। রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি পেতে পারে ছয়টি আসন।

অন্যদিকে বিরোধী জোটের গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াখাদ ১২টি, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসন পেতে পারে।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের জনমত জরিপে বিরোধী জোট এগিয়ে ছিল। আইজেনকোটের দলকে পার্লামেন্টের বৃহত্তম দল হওয়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছিল।

এদিকে ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল এবং ইয়োয়াজ হেন্ডেলের দ্য রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি নির্বাচনে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হতে পারে। এতে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরব দলগুলোর সমর্থন চায় বিরোধীদের একাংশ

নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের পর বিরোধী নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার তিনি বলেন, আরব দলগুলোকে হিসাবে ধরলে বিরোধী পক্ষের আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষের আসন প্রায় ৫৫। তার মতে, এই হিসাব অনুযায়ী নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গোলান লেখেন, ‘নেতানিয়াহু হেরেছেন। আমি ১২০ পর্যন্ত গুনতে জানি। ৬৫, ৫৫-এর চেয়ে বেশি। ইসরায়েলি গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করে।’

তিনি আরো বলেন, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে নেতানিয়াহুর বর্ণবাদী বিভাজন আর মেনে নেওয়া উচিত নয়।

তবে বিরোধী জোটের অন্য নেতারা সরকারে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর আরব দলগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি তাদের কাছে আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিবারম্যানও নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন।

ফলে গোলানের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা বিরোধী জোটের জন্য সহজ হবে না।

নতুন নির্বাচন এড়াতে আহ্বান প্রেসিডেন্টের

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক নেতাদের খোলা মন নিয়ে জোট গঠনের আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন নির্বাচন এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

বুধবার হারজগ বলেন, ‘একটি বিষয় বুঝতে হবে—নির্বাচনের আগেও আমি এ কথা বলেছিলাম। গতকালের নির্বাচনের পর তো অবশ্যই, নতুন করে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে আমাদের সবকিছু করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আলোচনায় অংশ নিতে আসা প্রত্যেকেরই খোলা মন নিয়ে আসা উচিত।

আইন অনুযায়ী, সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রেসিডেন্টকে নেসেটের বিভিন্ন দলের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রস্তুত আরব দল

জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বুধবার বলেছেন, নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথ তৈরি করতে তার দল প্রস্তুত। এর আগে তিনি কয়েকটি দাবি পূরণ করা হলে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

পরে আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের সংসদীয় দলের চেয়ারম্যান ও হাদাশ-তাআল সদস্য আহমাদ তিবি বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের ইঙ্গিত দেন।

তিনি বলেন, ‘বিরোধী জোটের সাহস থাকলে তারা সরকার গঠন করতে পারবে। আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি এবং সহায়তা করতে প্রস্তুত।’

২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত সরকারে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি আরব দল—রাআম—জোটের অংশ হয়েছিল। বিষয়টি তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বেনেট বর্তমানে ভবিষ্যৎ সরকারে কোনো আরব দলকে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন।

রাআমের চেয়ারম্যান মানসুর আব্বাস অবশ্য তার দলকে সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। গত আগস্টে তিনি সাবেক ইয়েশ আতিদ সংসদ সদস্য ইয়োভ সেগালোভিৎসকে দলের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রাখার ঘোষণা দেন। কোনো ইহুদি প্রার্থীকে ইসলামপন্থী আরব দলটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার এ উদ্যোগকে জোটসঙ্গী হিসেবে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার গঠন না হলে আবার নির্বাচন?

নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না আসায় ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনাও আপাতত ক্ষীণ। আইজেনকোট নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি মেয়াদ ভাগাভাগি করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

অন্যদিকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিরোধী জোট সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে পার্লামেন্টে সরাসরি ৬১টি আসন না থাকলেও আস্থা ভোটে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে এ ধরনের সমীকরণে বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category