• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

চা বাগানের কুঁড়েঘর থেকে হার্ভার্ডে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: / ৭৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

 ছবি সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের শ্রমিক লাইনের ছোট্ট ঘরে জন্ম শান্তা যাদবের। তার বাবা-মা দুজনই চা শ্রমিক। মাসে ১০ হাজার টাকারও কম আয় করা সেই পরিবারের মেয়ে এখন পড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে। ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্স ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামে পড়ার জন্য তিনি পেয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি।

শান্তার বেড়ে ওঠা চা বাগানের শ্রমিক লাইনের একটি কুঁড়েঘরে। বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদবের সীমিত আয়ে সংসার চালানোই ছিল কঠিন। তবু পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছিলেন শান্তা। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় লংলা চা বাগানের স্থানীয় স্কুলে। পরে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ডে যাওয়ার আগে বিশ্বের আরও ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন শান্তা। শেষ পর্যন্ত নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে হার্ভার্ডের প্রোগ্রামটি বেছে নেন।

চা বাগানে অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে শ্রমিকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা শান্তার পরিচিত বাস্তবতা। ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে দূরে যাওয়ার কষ্ট তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনা এবং নিজ কমিউনিটির জন্য কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল। আর্থিক সংকটের কারণে শুরুতে তাকে শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে মেয়ের মেধা ও আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদী ছিলেন, একদিন সে চা শ্রমিকের জীবন থেকে বেরিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ গড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা শুধু নিজের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেন।

উচ্চশিক্ষা শেষে নিজের এলাকায় ফিরে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান শান্তা। তার এই অর্জন চা বাগানের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছে উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category