• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
Headline
কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি, ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কল্যাণ সভায় পুরস্কৃত হলেন সেরা পুলিশ সদস্যরা ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের ভূমিধস জয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক  ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত থাকছে নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার, বন্দুক ও সরঞ্জাম উদ্ধার যুবদল আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভাই: বিএনপি নেতাদের সহযোগিতার আহ্বান মুন্নার টয়োটার প্রথম প্রাইভেট কারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী মদিনার যে স্থানে নবী কারিম (সা.) তিনটি দোয়া করেছিলেন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর বর্বর নির্যাতন, মৃত্যুদন্ড ও শিরশ্ছেদ বন্ধ করুন শ্রমিক বিক্ষোভ সমাবেশে সাইফুল হক উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন 

মৌলভীবাজারে ভূমি অফিসে চরম দুর্নীতির ছোবল: ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা,

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি / ২২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কামরুল ইসলাম। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মাত্র ২ শতক জমি বিক্রির জন্য খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে পড়েন বিপাকে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে তাকে জানানো হয়, গত ৫০ বছর ধরে খাজনা বকেয়া থাকায় তা এসেছে ১৪ হাজার টাকা। দীর্ঘ কাকুতি-মিনতির পর কর্মকর্তা খাজনা নির্ধারণ করেন ৯ হাজার টাকা।
একই ভোগান্তির শিকার লিপন আহমেদ। ব্যাংক ঋণের প্রয়োজনে ৯ শতক জমির খাজনা দিতে গিয়ে শোনেন পুরো পর্চার ৬৯ শতকের ২২ হাজার টাকা খাজনা দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত কিছু টাকা ‘ঘুষ’ দেওয়ার পর মেলে ১৪ হাজার ৮১৮ টাকার রসিদ।
শুধু কামরুল বা লিপন নন, মৌলভীবাজারের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসেই সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চিত্র এটি। খাজনা, নামজারি, মিস কেস কিংবা দলিল রেজিস্ট্রেশন—সবখানেই জড়িয়ে আছে ঘুষের জাল।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি ও মিস কেসে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। জমিতে কোনো জটিলতা থাকলে ঘুষের অংক দাঁড়ায় ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত। এই অনৈতিক বাণিজ্যে তহসিলদার, অফিস সহকারী, কানুনগো, সার্ভেয়ার, জারিকারক, পিয়ন এমনকি স্থানীয় দালালেরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়াসহ বিভিন্ন ভূমি অফিস ঘুরে জানা যায়, সরকার অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেও তৃণমূলের মানুষ এ বিষয়ে অনেকটাই অসচেতন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু কর্মকর্তারা সেবাগ্রহীতাদের ভয় দেখান। অনলাইনের দোহাই দিয়ে প্রথমে চাওয়া হয় বিশাল অঙ্কের বকেয়া বা জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ভয় দেখানো হয়। পরবর্তীতে ঘুষ দিলেই সেই বকেয়া বা শ্রেণি বদলে কমিয়ে দেওয়া হয়।
রাজনগরের কাদির মিয়ার অভিজ্ঞতা আরও তিক্ত। মাত্র ২ শতক জমির মিস কেসের জন্য দেড় বছরে ১৫ বার ভূমি অফিসে ঘুরেছেন। ৩-৪ বার শুনানির দিন গিয়ে দেখেছেন কর্মকর্তা অনুপস্থিত, অথচ আগেই কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।
ঘুষ ও ডিজিটাল সিস্টেমের অসঙ্গতি নিয়ে এক সাব-রেজিস্ট্রার জানান, তাঁর এক পরিচিতজন অনলাইনে সাড়ে ৪ হাজার টাকার খাজনার কপি পেলেও অফিসে যোগাযোগ করার পর সংশোধনের নামে তা ৪০০ টাকায় নেমে আসে।
এ বিষয়ে জানতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সরকারি নম্বরে কল দেওয়া হলে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে সচিব বা মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোসা. শাহীনা আক্তার বলেন, “ভূমি অফিসে অনিয়ম বা দুর্নীতির লিখিত প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুত করা হবে। খাজনার শ্রেণি পরিবর্তন করে টাকা দাবির কিছু মৌখিক অভিযোগ পেলেও এখনো কেউ লিখিত দেননি।”
অনলাইন সেবা ও নিয়মের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে ঘরে বসেই খাজনা দেওয়া সম্ভব, যা অনেকেই জানেন না। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একই পর্চার অধীন সব জমির খাজনা একসঙ্গে পরিশোধ করতে হয়; পৃথকভাবে পরিশোধ করতে চাইলে আগে নামজারি সম্পন্ন করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category