মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারী পানপুঞ্জিতে দুর্বৃত্তদের দ্বারা ফলবান পানগাছ কর্তনের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও পাঁচ দফ দাবিতে জেলা প্রশাসক নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজক সংগঠন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখা, কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (কেএসইউ), বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটি এবং ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) এর যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে পানগাছ কর্তনের সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার, কঠোর বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আদিবাসী পানচাষীদের জীবন-জীবিকা ও জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। কর্মসূচি শেষে ৫ দফা দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখা সভাপতি, ফ্লোরা বাবলি তালাং, মানবাধিকার কর্মী হেলেনা তালাং এর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট এর সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম, ভয়েস অব রিভার মনু এর প্রধান নির্বাহী আসম ছালেহ সুহেল, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাড. ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিস, সদস্য সচিব অ্যাড.আবুল হাসান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা সহসভাপতি নারায়ন কুর্মী, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পংকজ কন্দ,মুন্ডা সমাজ কল্যান পরিষদ বৃহত্তর সিলেট সাধারন সম্পাদক লক্ষন মুন্ডা, লাউয়াছড়া পুঞ্জির মান্রী ফিলা পতমী, খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লান্ছার তংপের,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মৌলভীবাজার জেলা শাখা সভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব সূত্রধর, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মৌলভীবাজার জেলা ইনচার্জ উজ্জল রায়, ফাদার যোসেফ গমেজ সহ স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দরা।
মানববন্ধন শেষে প্রতিবাদী মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নার্সারী পানপুঞ্জিতে একদল দুর্বৃত্ত রাতের আঁধারে জুমের ভেতর প্রবেশ করে ১০টি খাসিয়া ও গারো পরিবারের প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার ফলবান পানগাছ কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর থেকে পুঞ্জিবাসীর জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে এবং স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে মারাত্মক আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।