শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি উপস্থিত অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও আশপাশের গ্রামের অসহায়, দুস্থ, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে সপ্তাহে অন্তত একবেলা পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় যুবসমাজ এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। নিজস্ব অর্থায়ন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ আয়োজন চলে আসছে।
শুক্রবার মোংলায় সরকারের পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি প্রশাসনিক কর্মসূচি পালন শেষে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম স্থানীয় যুবকদের এ মানবিক উদ্যোগের কথা জানতে পারেন। পরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তিনি সরাসরি মেহমানখানার অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন।
সেখানে গিয়ে তিনি চেয়ার-টেবিলে না বসে মাটিতে চট বিছিয়ে বসে থাকা ক্ষুধার্ত ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে বসেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। পরে তার সঙ্গে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোংলা থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ রাজনৈতিক নেতারাও সেখানে বসে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।
খাবার গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই জাঁকজমকপূর্ণ সমাজের অন্তরালে এখনো বহু অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ রয়েছেন, যারা দু-মুঠো অন্ন জোগাড় করতে হিমশিম খান। তারা একবেলা ভালোভাবে খেতেও পারেন না। এসব অবহেলিত মানুষকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন একবেলা ভালো খাবার খাওয়ানোর যে উদ্যোগ স্থানীয় যুবসমাজ নিয়েছে, তা অত্যন্ত মহতী ও প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে এ ধরনের মানবিক কাজে বিত্তবানসহ সমাজের সবার এগিয়ে আসা উচিত। এর মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় ও অটুট থাকে এবং আমরা সবাই একে অপরের সুখ-দুঃখের প্রকৃত সাথি হতে পারি।







