গত বুধবার প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা উপলক্ষে কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা হ্যাচারি পরিদর্শন করেন। সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ যৌথভাবে এই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে।
সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা জানান, প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে ৬০ থেকে ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। হ্যাচারির নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পরও প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম প্রকল্পের কারিগরি সুবিধা উল্লেখ করে জানান, এই বিশেষ ফোল্ডিং প্রযুক্তির ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্যানেলগুলো একপাশে সরিয়ে সহজেই হ্যাচারির ট্যাংক শুকানো যাবে। এছাড়া শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না থাকলেও হ্যাচারিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসেবা বজায় থাকবে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, ‘সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ওশান হ্যাচারির মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করতে পারবে, যা দেশের জ্বালানি খাতে বড় অবদান রাখবে।’
এ সময় চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন এবং সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগটি সফল হলে দেশের মৎস্য ও চিংড়িশিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।