নীতি-আদর্শের কথা বলে যাত্রা শুরু করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার জেলা শাখায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও আদর্শচ্যুতির গুরুতর অভিযোগ এনে দল এবং এর সহযোগী সংগঠন থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন চার শীর্ষ নেতা।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক বিবৃতি দিয়ে তারা এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারী নেতারা হলেন— জেলা এনসিপির জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম রুমন, জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা সদস্য সচিব শাফকাত হোসেন সাদেক (সাদেক খান) এবং মুখ্য সংগঠক মামুনুর রহমান রাজু।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন আব্দুল্লাহ আল হোসাইন। তিনি তার বিবৃতিতে লেখেন, “মৌলভীবাজার জেলায় এনসিপি আজ কোনো আদর্শিক দল নয়, বরং এটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্যাং ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। দলের ভেতরে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল এবং প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি এক শীর্ষ কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার গ্রেফতার হলে তাকে ছাড়িয়ে আনতে কেন্দ্র থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অন্যান্য পদত্যাগকারী নেতারাও একই সুর গেয়ে অভিযোগ করেন যে, দলের বিভিন্ন ইউনিটে বিতর্কিত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রমাণসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি, বরং তারা নীরব ভূমিকা পালন করে গেছেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মামুনুর রহমান রাজু বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক ধারার যে অপসংস্কৃতি ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে তারা মাঠে নেমেছিলেন, বর্তমান কার্যক্রমে তা অব্যাহত থাকায় আদর্শিকভাবে দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব নয়।
হঠাৎ এই গণপদত্যাগের ঘটনায় মৌলভীবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সভাপতির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।