কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (মহুরি) সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা ও কারাবন্দী আইনজীবী সহকারী আব্দুল বাতেন।
সমিতির নির্বাচনের এক দিন আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার দিনভর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর রাতে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা বারের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল বাতেন কুড়িগ্রাম জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকনের আইনজীবী সহকারী। তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সভাপতি।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার সমর্থক কয়েকজন মহুরি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে তাকে পরাজিত করতেই পরিকল্পিতভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক কারণে আব্দুল বাতেনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ১৪ সদস্যের প্যানেলের মধ্যে আব্দুল বাতেন সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট আটজন বিজয়ী হয়েছেন।
সভাপতি পদে আব্দুল বাতেন মহুরি পেয়েছেন ২০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ১৪০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুল বাতেন সমর্থিত প্যানেলের আতিয়ার রহমান। তিনি পেয়েছেন ১৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাইফুর রহমান পেয়েছেন ১০১ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৬২ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৫৮ জন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের এক দিন আগে একজন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করায় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি মর্মাহত হয়েছি। আব্দুল বাতেনকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা আমি জানি না। তবে তাকে গ্রেপ্তারের কারণে তিনি অনেক সহানুভূতির ভোট পেয়েছেন এবং তার প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য বিজয়ী হয়েছেন।