মৌলভীবাজারে কথিত সীমানা পিলার ও প্রাচীন কয়েন বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৪ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে কথিত ২০০ কোটি টাকা মূল্যের এন্টিক কয়েনসহ বিপুল পরিমাণ প্রতারণার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন এস এম ইলিয়াছুর রহমান, মো. ইকরাম মিয়া, তাহের-উল-ইসলাম আখতারুজ্জামান ও মো. ইব্রাহিম বেপারী।
মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজনগরের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের কাছ থেকে চাতলাপুর চা বাগানে ব্রিটিশ আমলের হাজার কোটি টাকা মূল্যের ধাতব পিলার আছে বলে প্রলোভন দেখানো হয়। ঢাকার ক্রেতা আছে বলে বিশ্বাস করিয়ে প্রথমে ১ কোটি টাকার ৪টি চেক নেওয়া হয়। পরে পিলার হস্তান্তরের নামে নগদ ২ কোটি টাকা নেয় চক্রটি। বাক্স খুলে ভুক্তভোগী দেখেন ভেতরে পিলার নেই, আছে একটি সাপ।
প্রতারকরা পরে দাবি করে, টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে জিনের মাধ্যমে পিলার সাপ হয়ে গেছে, ২১ দিন পর ফিরে আসবে। এভাবে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ কোটি ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে কুলাউড়া থানায় মামলা হয়। অস্বাভাবিক লাভের প্রলোভনে না পড়তে সতর্ক করেছে জেলা পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমার দিকনির্দেশনায় ও ডিবির ওসি সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এসআই আহলাদ ইবনে জামিলের টিম শ্রীমঙ্গল ও ঢাকার মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি এন্টিক কয়েন, একটি নোহা গাড়ি, ৮টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড, ভুয়া বিজনেস এগ্রিমেন্ট, চেকবই ও এন্টিক গ্যালারি ইন্টারন্যাশনালের ভুয়া সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়।
১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা জানান, বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। কথিত মূল্যবান বস্তু ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নাটক সাজিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২ কোটি টাকা নেওয়ার পর কথিত মূল্যবান বস্তু দেওয়ার কথা বলে বক্সে সাপ রেখে প্রতারণা করা হয়। অভিযানে অ্যান্টিক কয়েন, গাড়ি, মোবাইল ফোন, ভিজিটিং কার্ড, ভুয়া চুক্তিপত্র ও সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।