অনিকের স্ত্রী বলেন, অভাবের কারণে তাদের সংসারে দীর্ঘদিন নানা সমস্যা চলছিল। মেয়েটি বাবাকে খুব ভালোবাসে। সেদিন বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে সে পাশে গিয়ে দাঁড়ায় এবং নিজের হাতে খাবার খাওয়ায়।
শিশুটির বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। পরে রোববার অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিশুটির পড়াশোনা যাতে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি অনিক যাতে কাজ করে সংসার চালাতে পারেন, সে জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, শিশুটির ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। অনিককেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, অনিকের কর্মসংস্থানের জন্য এগিয়ে এসেছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অনিককে একটি ভ্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আয় করে পরিবার চালানোর সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সদস্য এসএম আকবর বলেন, অনিকের প্রয়োজনের সময়ে যতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রয়োজন, আমাদের সংগঠন সামর্থ্য অনুযায়ী তা অব্যাহত রাখবে। অনিক সিকদার বলেন, তার ভুল হয়ে থাকলে তিনি আর কোনো অন্যায় করবেন না। কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে চালাতে চান তিনি। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার সহযোগিতা চান।