তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের জনজীবন। দিন-রাত মিলিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়স্করা। নিয়মিত এমন লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের তীব্র এই গরমের মধ্যে জেলা শহরসহ জেলার ৭ টি উপজেলায় সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জেলার প্রায় ৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকে। তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিশু বাচ্চা ও বয়স্কদের। অতিরিক্ত গরমের কারণে অনেক শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এমনকি অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, দৈনিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। শুক্রবার বিকেল ৩ টায় চাহিদা ছিল ৯৫ মেগাওয়াট। অথচ বিদ্যুৎ পেয়েছি ৭১ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক অসুস্থ হয়ে গেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ফয়ছল আহমেদ বলেন, একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। নভেম্বর থেকে পরিক্ষা শুরু হবে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়ালেখা করতে পারছি না।
গরমের দাপট কমে কমে আসবে এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাপমাত্রা কমে আসবে। সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা এর নিচে তাপমাত্রা নেমে আসলে আমরা শীত মৌসুমের আগমন মনে করি। এখন তাপমাত্রা বেশি গরম থাকবে আরও কিছু দিন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাচ্ছি। আসলে আগে মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা কম ছিল, এখন আগের তুলনায় কয়েকগুণ চাহিদা বেড়ে গেছে।