মৌলভীবাজারে দ্বিতীয় পর্যায়ে ২১ হাজার ৩৪৪ জন শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কর্মসূচি শুরু হলেও প্রচারণার অভাবে তা নিয়ে অজ্ঞতার সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকদের মাঝে। নেই কোনো মাইকিং বা প্রচার-প্রচারণা, যার ফলে টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি একেবারেই নগণ্য।
মৌলভীবাজার পৌরসভাসহ বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রই ছিল জনশূন্য। সদর হাসপাতাল টিকাদান কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মীরা জানান, সকাল থেকে মাত্র তিনজন শিশু টিকা নিয়েছে। অন্যান্য কেন্দ্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
টিকা নিতে আসা কয়েকজন শিশুর মায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা এই টিকা কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। এলাকায় কোনো মাইকিং না হওয়ায় অনেকেই বিষয়টি জানেন না। এ অবস্থায় কর্মসূচিটির কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জিত হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মঞ্জু দেবনাথ স্বীকার করেন যে, এবার কোনো মাইকিং করা হয়নি। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানে টিকাদান কর্মসূচি চললেও প্রচারণার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, বাজেট বরাদ্দ না থাকায় এবার মাইকিং করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে অভিভাবকদের জানানোর চেষ্টা করছি।
জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা।