হামলাকারীরা কারখানার ভেতর থেকে কম্পিউটার, ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যান বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ঘটনার পর বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহযোগিতা করেন।
মিছিলকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না এবং কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাই বন্ধের দাবি জানান।
কাজী ফার্মসের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়ের ওই ফিডমিলে বর্তমানে ৩৭০ জন কর্মী কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ১৩৫ জন পঞ্চগড়ের বাসিন্দা। অন্যরা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত ছয় মাসে এই ফিডমিল থেকে কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হয়নি।
কাজী ফার্মস জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে তাদের ৩২টি মুরগির খামারসহ মোট ৪৩টি পোলট্রি স্থাপনা রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে আরো বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কাজী ফার্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী এম শামসুদ্দীন বলেন, এই ফিডমিল থেকে কাজী ফার্মসের প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মিলটি বন্ধ রাখতে হয়েছে। দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব না হলে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পোলট্রি খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
গাজী এম শামসুদ্দীন আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি, এ ধরনের হামলার পেছনে কোনো অপশক্তি কাজ করতে পারে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
ঘটনার তদন্ত করে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি দ্রুত ফিডমিলটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
কাজী ফার্মসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিডমিলটির কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে এর প্রভাব শুধু প্রতিষ্ঠানটির ওপর নয়, উত্তরবঙ্গের পোলট্রি খাত ও সংশ্লিষ্ট খামারিদের ওপরও পড়তে পারে।