মাত্র ৭ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় কোমরের হাড় ভেঙে যায় আবেদার। এরপর আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। বিয়েও হয়নি তার। টানা ৪৭ বছর ধরে বিছানায় শুয়ে দিন কাটছে তার। শিশুর মতোই তাকে দেখভাল করতে হচ্ছে বৃদ্ধ বাবা-মাকে।
এখন বয়সের ভারে এয়াকুব আলী ও পাগলি বেগম দুজনই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তারপরও অসুস্থ মেয়েকে ফেলে রাখার উপায় নেই। মেয়ের খাবার, পরিচর্যা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা।
পরিবারটির মাথা গোঁজার ঘরটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। টিনের চালের বিভিন্ন স্থানে ফুটো হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে রাত কাটাতে হয়। জরাজীর্ণ ঘরটি যে কোনো সময় বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
আবেদার বাবা এয়াকুব আলী সরদার বলেন, ‘তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে আবেদা সবার বড়। ৭ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় কোমর ভেঙে যাওয়ার পর আর ভালো হয়নি। তখন ভালো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না। সেই থেকে ৪৭ বছর ধরে মেয়েটাকে শিশুর মতো দেখভাল করতে হচ্ছে।’
আবেদার মা পাগলি বেগম বলেন, ‘আমরা তো একদম শেষ বয়সে চইলা আইছি, শরীলে আর ক্ষমতা নাই। ৭ বছর বয়স থেইকা মাইয়াডা বিছানায় পইড়া আছে। বৃষ্টি আইলে ঘর ভাইসা যায়। আমাগো মরার আগে মাইয়াডার থাকার মতো একটা ভালো ঘর আর চিকিৎসার ব্যবস্থা যদি হতো।’
জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে এয়াকুব আলী ও পাগলি বেগমের একটাই চিন্তা—তারা না থাকলে দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে শয্যাশায়ী মেয়েটির কী হবে। তাই নিজেদের জন্য নয়, মৃত্যুর আগে মেয়ের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে যেতে চান শতবর্ষী এই দম্পতি।
বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উদয় শংকর বিশ্বাস বলেন, ‘আবেদা খাতুনের পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সমাজ ও এলাকার সচ্ছল মানুষরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তারা অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারবে। এই মুহূর্তে আবেদার জন্য একটি নিরাপদ ঘর ও আর্থিক সহায়তা খুবই প্রয়োজন।’