• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ অপরাহ্ন
Headline
গিগালজি আয়োজিত টেকনোপ্রিনিউরশিপ ব্যাচ ২-এ চ্যাম্পিয়ন ‘টিম আশা’ ছেলের মুখ দেখতে গিয়ে গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ারের মুখোমুখি হয়েছিলাম’ —জাকির হোসেন উজ্জ্বল। ইসরাইলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, কত আসন পেল নেতানিয়াহুর দল? নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফুটপাতে চাঁদাবাজি বন্ধে ওয়ার্ডভিত্তিক হকার ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত ২০ বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা চাওয়ায় রেস্টুরেন্টে তালা লাগানোর অভিযোগ আজকের নামাজের সময়সূচি ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, আরবরাই কিং মেকার বিইআরসির গণশুনানি ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

ফেনীতে ডেঙ্গুর সঙ্গে বাড়ছে হামের প্রকোপ, ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩০৫; হাম উপসর্গে ভর্তি ১,৫৯১

ফেনী প্রতিনিধি / ৩৮ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

  • ফেনীতে ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে হামের প্রকোপ। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলতি বছর জেলায় ১ হাজার ৫৯১ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৯ জন। অন্যদিকে, চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৯ জন হাম উপসর্গের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি মাসে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে।

হাসপাতালের হিসাবেও হাম উপসর্গের রোগীর চাপের চিত্র পাওয়া গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ছয়জন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ৫৪৩ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় অংশই ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ হাসপাতালে ১ হাজার ৩৩০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ২৭১ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৫৯ জন।

চলতি বছর দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৬ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮ জন, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন করে এবং সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।

জেলা পর্যায়ের হিসাবে ফেনী পৌর এলাকায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১ হাজার ৩৩০ জন। তাঁদের মধ্যে ২২ জনের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। সোনাগাজীতে ১৪৫ জন সন্দেহজনক রোগীর মধ্যে আটজন, দাগনভূঞায় ৫৬ জনের মধ্যে চারজন, ফেনী সদর উপজেলায় ১৭ জনের মধ্যে দুজন, ফুলগাজীতে সাতজনের মধ্যে দুজন এবং ছাগলনাইয়ায় ২৯ জনের মধ্যে একজনের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। পরশুরামে সাতজন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলেও কারও পরীক্ষায় হাম ধরা পড়েনি।

ডেঙ্গুতেও উদ্বেগ

অন্যদিকে, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৪১টি ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে একজনসহ মোট ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। এ নিয়ে ২০২৬ সালে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৫ জনে।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে ফেনী সদর উপজেলা এগিয়ে। এখানে মোট ১৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর দাগনভূঞায় ৩৬, সোনাগাজীতে ৩০, ছাগলনাইয়ায় ২০, ফুলগাজীতে ১১ এবং পরশুরামে ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৬ জনের মধ্যে ফেনী সদরে ১৮, সোনাগাজীতে পাঁচ, ছাগলনাইয়ায় দুই এবং ফুলগাজীতে একজন রয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের প্রথম কয়েক দিনেও ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে ফেনী সদরে ৪৫ জন, সোনাগাজীতে সাত, ছাগলনাইয়ায় চার, ফুলগাজীতে দুজন এবং দাগনভূঞায় একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ফেনীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট ২০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর ইতোমধ্যে ১০৪ জন বেশি আক্রান্ত হয়েছেন।

মশক নিধন নিয়ে ক্ষোভ

এদিকে, শহরে পর্যাপ্ত মশক নিধন কার্যক্রম না থাকার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব বাড়লেও অনেক এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। এতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ড্রেন পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার ওষুধ ছিটানো হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category