জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ১৩তম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দ্রুত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন কৌশল নির্ধারণের জন্য জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো (ইউএনএফসিসিসি)-এর আওতায় ‘ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান’ (ন্যাপ) প্রণয়ন করেছে বলে জানান মন্ত্রী।
এ ছাড়া গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশ ‘থার্ড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন্স’ (এনডিসি ৩.০) প্রণয়ন করে ইউএনএফসিসিসি-তে দাখিল করেছে।
এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় বা শর্তহীনভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া সাপেক্ষে শর্তযুক্তভাবে আরও ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ বা ৫৮ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
দীর্ঘমেয়াদে নিঃসরণ কমাতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ‘লং টার্ম লো এমিশন ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস’ (এলটি-এলইডিএস) প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ করতে একটি সমন্বিত ‘কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই কাঠামোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো, পরিবেশসম্মত উচ্চমানের প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কার্বন ক্রেডিট লেনদেনের মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।