নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জামাইয়ের কুঠারের আঘাতে সাহারা খাতুন (৫৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতক জামাই শাহেদ বিশ্বাস ওরফে রফিকুল ইসলামকে (৩৮) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাহারা খাতুন ওই গ্রামের আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী। আটক শাহেদ বিশ্বাস উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কনুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০-১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে শাহেদ বিশ্বাসের সঙ্গে সাহারা খাতুনের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শাহেদ স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে সাহারা খাতুনের স্বামী আব্দুল মোতালেব প্রায় ২০০ শতক ফসলি জমি জামাই শাহেদকে রেজিস্ট্রি করে দেন।
কয়েক বছর আগে শাহেদের স্ত্রী মারা যান। এরপরও তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করতে থাকেন। এর মধ্যে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় বিয়ের পরও প্রথম শ্বশুরবাড়িতেই থাকছিলেন শাহেদ।
সম্প্রতি জমি নিয়ে শাহেদ ও তার প্রথম শ্বশুর-শাশুড়ির মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। শাহেদকে দেওয়া জমি তার দখলে বুঝিয়ে দেওয়া নিয়ে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হয়। সর্বশেষ স্থানীয়রা শাহেদকে জমিটি দখলে দেওয়ার বিষয়ে আব্দুল মোতালেব ও সাহারা খাতুনকে রাজি করান। চলতি মৌসুমে জমিটি শাহেদকে চাষাবাদের জন্য দেওয়ার কথা ছিল।
এরই মধ্যে শনিবার রাতে জমি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে শাহেদ তার শাশুড়ি সাহারা খাতুনের মাথায় কুঠার দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন শাহেদকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহেদকে হেফাজতে নেয় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহমেদ বলেন, জামাইয়ের আঘাতে শাশুড়ি নিহত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।